বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সভা © সংগৃহীত
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য বাসাভিত্তিক পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন (হৃদরোগ পুনর্বাসন) ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গবেষক, চিকিৎসক, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে স্টেকহোল্ডার সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস (বিইউএইচএস)। ‘অ্যাফোর্ডেবল কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন: অ্যান আউটরিচ ইন্টার-ডিসিপ্লিনারি স্ট্র্যাটেজিক স্টাডি–বাংলাদেশ প্রজেক্ট (অ্যাক্রস-বিডি)’ শীর্ষক এ সভায় হৃদরোগ পুনর্বাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে গবেষণার প্রমাণ, উদ্ভাবন ও অগ্রাধিকার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশের জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী। এর মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম প্রধান কারণ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আন্তর্জাতিক মানের, সাশ্রয়ী ও স্থানীয়ভাবে কার্যকর কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন মডেল বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ নীতি ও কাঠামোগত সহায়তা দেবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গবেষণার ফলাফল শুধু গবেষণাগার বা জার্নালে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এসব গবেষণার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের উপাচার্য অধ্যাপক জে এম এ হান্নানের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন হেলথ রিসার্চের অধ্যাপক ও অ্যাক্রস প্রকল্পের কো-চিফ ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক রড এস টেইলর এবং পাকিস্তানের জিয়াউদ্দিন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের অধ্যাপক ও প্রকল্পের কো-চিফ ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক ইমরান বি. চৌধুরী।
তাদের উপস্থাপনায় হৃদরোগ থেকে সুস্থ হওয়া রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী, স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও বাসাভিত্তিক পুনর্বাসন মডেল তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ব্যবস্থায় রোগীদের শারীরিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) সভাপতি ন্যাশনাল অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তারা হৃদরোগ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতা এবং কার্যকর পুনর্বাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অ্যাক্রস-বিডি প্রকল্পটি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চের (এনআইএইচআর) অর্থায়নে পরিচালিত পাঁচ বছর মেয়াদি আন্তর্জাতিক গবেষণা কর্মসূচি। যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো ও ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে এটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস।
এ ছাড়া বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সেন্টার হিসেবে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এবং ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব লিভিং অ্যান্ড লার্নিং (পিআইএলএল)সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
আয়োজকদের মতে, দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য অগ্রাধিকারের সঙ্গে প্রকল্পের লক্ষ্য সমন্বয় এবং কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ স্টেকহোল্ডার সভা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।