প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
এইডস এখনও বিশ্বজুড়ে একটি প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাতিসংঘের এইডস বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডস-এর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩.৭ কোটি মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। শুধু ২০২৪ সালেই নতুনভাবে সংক্রমিত হয়েছে প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষ। এ পর্যন্ত এইডসের কারণে মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় ৪ কোটি মানুষ। দেশে এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজারেরও বেশি। (খবর ইউএনএইডস, এনএএসপি)
বিশ্বের মধ্যে আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল এখনও এইচআইভি সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে উন্নত দেশগুলোতে এন্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART)-এর প্রসারের ফলে মৃত্যুহার কমে এসেছে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন।
বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে সংক্রমণের হার এখনও কম হলেও ধীরে ধীরে তা বাড়ছে। জাতীয় এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম (NASP)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজারেরও বেশি। ২০২৪ সালে নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৮০ জনের মধ্যে। সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে।
আরও পড়ুন: শরীরে প্রবেশ করেই যে ভাইরাস তৈরি করছে ডিমেনশিয়া, কমে যাচ্ছে স্মৃতিশক্তি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌনকর্মী, মাদকসেবী, অভিবাসী শ্রমিক ও সমকামী পুরুষদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই তাদের সংক্রমণ সম্পর্কে অবগত না থাকায় রোগটি নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে।
এইডসের লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, ওজন হ্রাস, অতিরিক্ত ক্লান্তি, রাতের বেলায় ঘাম, লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, মুখে বা শরীরে ঘা এবং বারবার সংক্রমণ হওয়া (যেমন যক্ষ্মা বা নিউমোনিয়া)।
বর্তমানে এইডসের কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিকার না থাকলেও, এন্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির (ART) মাধ্যমে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ART ও কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রতিরোধে যা করণীয় তা হলো- নিরাপদ যৌন আচরণ নিশ্চিত করা (কনডম ব্যবহার), রক্ত গ্রহণের সময় নিরাপদ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা রক্ত গ্রহণ, পরিশুদ্ধ ও একবার ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জ ব্যবহার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা, গর্ভবতী নারীদের এইচআইভি পরীক্ষা করানো, যাতে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।