সশস্ত্র বাহিনীর বেতন-ভাতা কত শতাংশ বেড়েছে, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪১ AM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান © সংগৃহীত

‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষাসামগ্রী দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার সেনাসদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন—এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্ম ইতিহাস জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। পরে তিনি অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ফিরে বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করেন এবং সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান তাঁর লেখায় উল্লেখ করেছেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে তিনি ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জেসিও ও জওয়ানদের উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং তাঁদের সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন। সেনাসদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে সেই নির্দেশ মেনে নেন।

তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমানের লেখা এসব তথ্য ১৯৭২ সালে অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলা, ১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রা এবং ১৯৮০ সালে দৈনিক দেশ পত্রিকার বিশেষ ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হয়েছিল। এসব তথ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও সেনাবাহিনীর জন্ম ইতিহাসের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরদিন ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে সশস্ত্র সংগ্রামের নির্দেশ দেওয়ার পর ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনা কর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ও বীরোচিত ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।

পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যুদ্ধের ধরন ও কৌশল দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সর্বক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষাসামগ্রী দেশে উৎপাদনের জন্য দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয়। এমন একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।

আরও পড়ুন: প্রতিকূলতার মধ্যেই টিউশনি করে প্রস্তুতি, শিক্ষার পর কৃষি ক্যাডার সোহেলের বিসিএস জয়ের গল্প

সশস্ত্র বাহিনীর বহুমুখী ভূমিকার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বই পালন করে না; দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।

পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট জাতীয় পতাকা বা ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী এসব ইউনিটকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ। পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নবম পদাতিক ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
‘মাদক’ সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
২ কলেজছাত্রীকে ডেকে নিয়ে জুতাপেটা, ভিডিও ভাইরাল
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ভারতে মন্দিরে ধানবোঝাই ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১৫
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের পাশে ছিলেন তারেক রহমান: রিজভী
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সশস্ত্র বাহিনীর বেতন-ভাতা কত শতাংশ বেড়েছে, জানালেন প্রধানমন…
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬