মিশন আচার্য ও রাশেদ খান © টিডিসি সম্পাদিত
মিশন আচার্য (৩০) ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন। মা ময়না আচার্য গৃহপরিচারিকার কাজ করে তাকে পড়ালেখা করান। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন মিশন আচার্য। নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্তও হয়েছেন তিনি। কিন্তু নিজেদের কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায় নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না। এই নিয়োগপত্রের আশায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরছেন তিনি। তবে এবার তার নিয়োগের ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ মিশন আচার্যের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমি একটু আগে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। বিষয়টি দ্রুতই সমাধান হবে এবং সে শিগগিরই নিয়োগ পাবে। চাকরি প্রত্যাশী ছোট ভাইটি আমার এলাকার হওয়ায় ঝিনাইদহ থেকে অনেকে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিল, তাদেরকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।’
মিশন আচার্য জানান, তার সঙ্গে যে ১৮২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুজন নিয়োগপত্র পাননি, যাদের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আর তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে স্থায়ী ঠিকানা না পেয়ে। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় চাকরির আবেদনে ভাড়া বাসার ঠিকানা দিয়েছিলেন তিনি।
তিনি বলেন, তারা দুই ভাই। বড় ভাই শৈলেন আচার্য অন্যের সঙ্গে ভাগে কাপড়ের ব্যবসা করেন। বাবা নন্দ আচার্যের বাড়ি ছিল যশোর। তার মা ময়না আচার্যের সঙ্গে বিয়ের পর ঝিনাইদহে থাকতেন। মাকে কখনো যশোর নিয়ে যাননি। ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগানে ভাড়া বাড়িতে ছিল তাদের সংসার। মায়ের কাছ থেকে তিনি যতটুকু শুনেছেন, ঝিনাইদহে থাকা অবস্থায় তার বড় ভাইয়ের জন্ম হয়। তিনি মায়ের গর্ভে এলে বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে যান, আর কখনো ফিরে আসেননি।
মিশন আচার্য বলেন, বাবা চলে যাওয়ার পর মা অসহায় হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় তিনি অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ শুরু করেন। এভাবেই তাদের দুই ভাইকে বড় করেছেন। বড় ভাই সংসারের চাপে বেশি পড়ালেখা করতে পারেননি।
তবে মিশন আচার্য এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলে মায়ের কষ্ট হলেও তাকে পড়ালেখা করিয়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩ পেয়ে পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর করেন।
মিশন আচার্য জানান, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, জেলা প্রশাসকের দপ্তরে খোঁজ নিতে গেলে তাকে জানানো হয়েছে তার কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তাই তাঁকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় বড় হয়েছেন মিশন আচার্য। সেখানে শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা কলাবাগান। তার সব শিক্ষাসনদে কলাবাগানের ঠিকানা রয়েছে। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর তার এই বাসায় গিয়ে পুলিশি যাচাইও করা হয়। তারপরেও তাঁকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
মিশন আচার্য বলেন, তার নানা বাড়ি সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে। সেখানে তার বাবা কিছুদিন ছিলেন। তাদের কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায় এক মামা বিষ্ণুপদ বিশ্বাস সেই পণ্ডিতপুরে বাড়ি করার জন্য ২০২২ সালে তাকে দুই শতক জমিও দিয়েছেন। কিন্তু বাড়ি করা সম্ভব হয়নি। ইচ্ছা ছিল চাকরি পাওয়ার পর সেখানে বাড়ি করে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকবেন।