বিরোধী দলীয় নেতার জন্য বরাদ্দ বাড়ি © সংগৃহীত
রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর বাড়ি, যা ‘লাল বাড়ি’ নামে পরিচিত, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক স্থান। ব্রিটিশ আমলে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসিক হিসেবে নির্মিত এই দোতলা লাল রঙের ভবনটি দীর্ঘদিন বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত এখানে বাস করেছেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ২০০১ সালে তিনি বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার পর গত ২৫ বছর ধরে এখানে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা বসবাস করেননি। বাড়িটি ফাঁকা পড়ে ছিল, এমনকি কারও জন্য বরাদ্দও হয়নি। এ সময়ে ভবনের আঙিনা গাছপালায় ভরে যায় এবং এটি অনেকটা নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে।
আড়াই একর জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। জামায়াত নেতৃবৃন্দসহ জোটের শীর্ষ নেতারা এখানে অসংখ্যবার বৈঠক করেছেন।
গত ২৫ বছরে কেউ না উঠলেও এবারে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে এখানে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তারা চাইলে বাসভবনটি নাও নিতে পারেন।
তবে নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া হিসেবে সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে ভবনটির মেরামত ও সংস্কারের কাজ জোরেশোরে চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন কেউ না থাকায় বাসভবনটি অনেকটাই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পূর্ত মন্ত্রণালয় দাবি করছে, বিরোধী দলীয় নেতার বসবাসের মতো উপযোগী করতে এখনো তাদের দেড় থেকে দু মাস সময় লাগতে পারে।
বাড়িটির দেখভালে থাকা গণপূর্তের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মেহবুবুর রহমান বলেন, এই বাড়িটির ৯০ ভাগ কাজ কমপ্লিট (সম্পূর্ণ) আছে। রাস্তার অংশ আর রঙের ফিনিশিং করতে হবে। আসবাব দেওয়া হবে যিনি থাকবেন তাঁর চাহিদার ওপর। গত ২৫ বছর কেউ থাকেননি। এবার যদি কেউ থাকেন তার সঙ্গে কথা বলব এবং আমরা সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় মাস সময় নেব। এর মধ্যে সব ঠিক হবে।
জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন বলেন, জামায়াত আমির বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি শপথের পর এবং আগে বলেছেন জামায়াত ইতিবাচক রাজনীতি করবে। যেহেতু বাড়িটি বিরোধীদলীয় নেতার জন্য বরাদ্দ তাই সেখানে তিনি উঠতে পারেন এমনটি ধারণা করা যায়। তবে এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে বা আমিরের পক্ষ থেকে ওই বাড়িতে ওঠার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।