আগামী বছরে স্বর্ণের দামে বড় লাফ দেখার সম্ভাবনার ঘোষণা দিয়েছে জেপি মরগ্যান © সংগৃহীত
বিশ্বব্যাপী সুদ হারের উত্থান-পতন, জ্বালানি দামের অস্তিরতা আর ভৌগোলিক সংঘাতের কারণে আসন্ন ২০২৭ সালে বড় লাফ দিতে পারে বিরল ধাতু স্বর্ণের দাম। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক বাজারে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৩০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যান। প্রতিষ্ঠানটির এ পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে, বাংলাদেশি মুদ্রায় বিশ্ববাজারে প্রতি ভরি খাঁটি সোনার দাম প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। খবর রয়টার্সের
জেপি মরগ্যানের গত জুনে প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স খাঁটি (২৪ ক্যারেট) সোনার দাম ৬ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। আর ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তা বেড়ে ৬ হাজার ৩০০ ডলারে দাঁড়াতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের জন্য সোনার দামের পূর্বাভাস কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। জুলাইয়ে জেপি মরগ্যান ওই প্রান্তিকে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলার হতে পারে বলে জানায়।
এক ট্রয় আউন্স সমান প্রায় ২ দশমিক ৬৭ ভরি এবং প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে, জুনের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬ সালের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম হতে পারে প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। আর ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে।
তবে এটি কেবল পূর্বাভাসভিত্তিক হিসাব, নিশ্চিত দাম নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, ডলারের বিনিময় হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর সোনার প্রকৃত দাম নির্ভর করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণে আমদানি ব্যয়, মজুরি ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়। ক্যারেটভেদেও দামের পার্থক্য থাকে। ফলে বিশ্ববাজারে সোনার দামের সঙ্গে দেশের বাজারদর এক নাও হতে পারে।
সোনার দাম বাড়ার পেছনে কয়েকটি বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কমার সম্ভাবনা, ডলারের দুর্বলতা এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মূল্যবান এই ধাতুর চাহিদা বাড়াতে পারে।
মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময় বিনিয়োগকারীরা সাধারণত সোনাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন। এমন পরিস্থিতিতে সোনার চাহিদা বাড়লে দামও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনার প্রবণতাও বাজারে চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলে।
২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং দেশটির অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তনও সোনার বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের পর নীতিনির্ধারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তবে এর প্রভাব নির্ভর করবে নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর।
অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বেশি রাখলে সোনার দাম বাড়ার পথে বাধা তৈরি হতে পারে। কারণ, সোনা থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদ পাওয়া যায়—এমন সম্পদ তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ প্রতি ভরি সোনার দাম ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকলেও, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।