বাণিজ্যপথ বন্ধ দেড় বছর, কর্মহীন শ্রমিকরা, কবে খুলবে টেকনাফ–ইয়াঙ্গুন রুট?

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ PM
টেকনাফ স্থলবন্দর

টেকনাফ স্থলবন্দর © সংগৃহীত

নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমার। একসময় এই নদীপথ ধরেই প্রতিদিন আসত পণ্যবাহী নৌযান। ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজ ঢুকত টেকনাফ বন্দরে। পণ্য খালাসে ব্যস্ত থাকতেন শ্রমিকরা, বন্দরে জমত ব্যবসায়ীদের আনাগোনা। ট্রাক-ট্রলার আর শ্রমিকের হাঁকডাকে সরগরম থাকত কেরুনতলী এলাকা। এখন সেখানে আর সেই দৃশ্য নেই।

নাফ নদীর ঘাটে নোঙর করে থাকা ছোট নৌযান আর সীমিত কিছু পণ্য ওঠানামাই যেন বন্দরের বর্তমান বাণিজ্যের প্রতিচ্ছবি।

মিয়ানমারের জান্তা সরকার ও আরাকান আর্মির সংঘাতের জেরে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ ইয়াঙ্গুন–আকিয়াব–টেকনাফের মূল বাণিজ্যপথ। চার মাস আগে মংডুর সঙ্গে সীমিত পরিসরে বাণিজ্য শুরু হলেও তাতে টেকনাফ বন্দরের পুরোনো কর্মচাঞ্চল্য ফেরেনি। বরং সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বলছে, মংডুর সঙ্গে চালু হওয়া এই সীমিত বাণিজ্যে আমদানির চেয়ে রফতানির পরিমাণ প্রায় চার গুণ বেশি।

বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসে মংডু থেকে টেকনাফে আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৮২৭ মেট্রিক টন পণ্য। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে মংডুতে রফতানি হয়েছে ৪ হাজার ৮০৭ মেট্রিক টন পণ্য।

রফতানি হওয়া এসব পণ্যের মূল্য প্রায় ৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা প্রায় ৩২ লাখ ৫৩ হাজার ৫২১ মার্কিন ডলার। এই চার মাসে আমদানি থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৮ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ৫৩৬ টাকা।

বাংলাদেশ থেকে মংডুতে যাচ্ছে আলু, ময়দা, ডিম, প্লাস্টিকের চেয়ার, টাইলস, ছাতা, স্যান্ডেল ও সাইকেলের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য।

অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে আসছে কাঠ, আইএনসি, কাঁকড়া ও নাইল্যা শুঁটকিসহ বিভিন্ন পণ্য। অর্থাৎ বাণিজ্য চলছে, কিন্তু তার পরিসর এখনো মূল বাণিজ্যপথ বন্ধ থাকার ক্ষতি পূরণের মতো নয়।

সরেজমিনে টেকনাফ স্থলবন্দরের কেরুনতলী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্দরে সীমিত পরিসরে পণ্য ওঠানামা হচ্ছে। মংডু থেকে আসা ঘাটে মাছবোঝাই একটি ছোট নৌযান নোঙর করে আছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে মংডুতে পাঠানোর জন্য আলু, কেক, প্লাস্টিকের চেয়ার, ময়দা, ডিম ও টাইলসসহ বিভিন্ন পণ্য ট্রাক থেকে ট্রলারে তোলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের শ্রমিক নেতা আজগর আলী বলেন, আগে বন্দরে নিয়মিত ৮০০ থেকে ১ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। এখন কাজের সুযোগ পাচ্ছেন মাত্র ১০০ থেকে ২০০ শ্রমিক।

তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মূল বাণিজ্য বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের আয় কমেছে। অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৬ জানুয়ারি ইয়াঙ্গুন থেকে টেকনাফের উদ্দেশে আসার পথে নাফ নদীতে পণ্যবাহী তিনটি বোট আটক করে আরাকান আর্মি।

প্রায় ১৬ দিন পর বোটগুলো ছেড়ে দেওয়া হলেও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ইয়াঙ্গুন–আকিয়াব রুটে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয় মিয়ানমার সরকার।
এরপর থেকেই টেকনাফ বন্দরের মূল বাণিজ্য কার্যত স্থবির।

স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক ওমর ফারুক বলেন, সীমান্ত বাণিজ্যের বড় অংশই ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব বন্দরের সঙ্গে। সংঘাতের কারণে ওই রুট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মংডুর সঙ্গে সীমিত বাণিজ্য চালু হলেও এতে আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট টেকনাফ লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব থেকে পণ্য আসা-যাওয়া বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে মংডুর সঙ্গে সীমিত পরিসরে আমদানি-রফতানি চলছে।

তার দাবি, বন্দরের মোট কার্যক্রমের প্রায় ১৫ শতাংশ এখন সচল রয়েছে।

বাণিজ্যপথ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কমেছে কর্মসংস্থান ও বন্দরের আয়।
রাজস্বেও বড় ধাক্কা। 

বাণিজ্যপথ বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে সরকারি রাজস্ব আদায়েও। টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান জানান, মংডুর সঙ্গে গত চার মাসের সীমিত বাণিজ্য থেকে সরকার ৮ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ৫৩৬ টাকা রাজস্ব পেয়েছে।

তবে ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব থেকে পণ্য আসা বন্ধ থাকায় আগের তুলনায় রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪৯ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি থেকে সরকার প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল।

পরের অর্থবছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানি কমে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টনে নেমে আসে। ওই সময়ে রাজস্ব আদায় হয় প্রায় ৯১ কোটি টাকা।

কিন্তু ব্যবসায়ীদের মতে, এতে বন্দরের পুরোনো কর্মচাঞ্চল্য ফেরানো সম্ভব নয়। আমদানি-রফতানিকারক ওমর ফারুক বলেন, সোনালী ব্যাংকে বকেয়া থাকা এফডিডি ড্রাফটগুলো রসুন ও আদা ছাড়া অন্যান্য পণ্যের বিপরীতে খালাসের অনুমতি দেওয়া হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াবের সঙ্গে বাণিজ্যপথ চালু হওয়াকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব বন্দর থেকে পণ্য আসা বন্ধ রয়েছে। তবে মংডুর সঙ্গে থেমে থেমে বাণিজ্য চলছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি সচল করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা: শামা ওবায়েদ
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক ড্রোন প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ ইউআইইউ, পেল সং…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেরী স্টোপস ক্লিনিকে চাকরি, আবেদন ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হলেন ‘শাড়ির আঁচল উড়িয়ে’  ভিডিও বানানো সেই বি…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিএমইউর ঝুঁকিপূর্ণ ‘এ’ ব্লক ভবন দ্রুত ত্যাগের নির্দেশ
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৩ জন লেকচারার নিয়োগ দেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অব টেকনোলজি
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬