স্টার্টআপ অর্থায়নে বিএসআইসির প্রথম এমডি ওয়াইজ রহিম

২২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৯ AM
ওয়াইজ রহিম

ওয়াইজ রহিম © সংগৃহীত

দেশের স্টার্টআপ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে গঠিত বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএসআইসি) প্রথমবারের মতো স্থায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ দিয়েছে। এ দায়িত্ব পেয়েছেন ভেঞ্চার বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা খাতে অভিজ্ঞ ওয়াইজ রহিম।

৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে গঠিত বিএসআইসির পরিচালনা পর্ষদে দেশের শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা রয়েছেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে ওয়াইজ রহিমের নিয়োগের তথ্য জানানো হয়েছে। বিএসআইসিতে যোগ দেওয়ার আগে ওয়াইজ রহিম লন্ডনভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান স্টার্জন ক্যাপিটালে বাংলাদেশবিষয়ক ভেঞ্চার পার্টনার হিসেবে কাজ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ কার্যক্রম মধ্য এশিয়া, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বিস্তৃত।

এর আগে ২০১৭ সালে ওয়াইজ রহিম ‘ডেলিগ্রাম’ নামে একটি ওমনি-চ্যানেল ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয় মুদিদোকানগুলোকে ই-কমার্সের ডেলিভারি ও ফুলফিলমেন্ট নেটওয়ার্কে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা করে। ডেলিগ্রামের জন্য সিঙ্গাপুর ও নিউইয়র্কের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থায়ন সংগ্রহ করেন ওয়াইজ রহিম।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি রহিমআফরুজে প্রযুক্তি পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। পরে ওয়াই অ্যাথলেটিকসের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ওয়াইজ রহিম ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বিএসআইসি গঠন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লক্ষ্য দেশের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন বাড়ানো। একই সঙ্গে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের পরিবেশ শক্তিশালী করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বিএসআইসি ২০২৬ সালের ১২ মে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিশ্রুত মূলধনের পরিমাণ ৪২৫ কোটি টাকা। ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অংশগ্রহণে এই তহবিল গঠিত হয়েছে।

এরই মধ্যে বিএসআইসি ‘অঙ্কুর’ নামে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের একটি তহবিল চালু করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪২৫ কোটি টাকা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে এই তহবিল থেকে দেশের স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, আগামী পাঁচ বছরে তহবিলটির আকার ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলোকে প্রতিবছরের বার্ষিক মুনাফার ১ শতাংশ স্টার্টআপ ইকুইটি ফান্ডে বিনিয়োগ করতে হবে। এর ফলে দেশে স্টার্টআপ অর্থায়নের পরিসর আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থায়ী এমডি ও সিইও নিয়োগের আগে প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম এ চৌধুরী বিএসআইসির অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বহুজাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সন্ধানেই স্থায়ী নিয়োগের প্রক্রিয়া চালানো হয়।

বিএসআইসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটির প্রথম তিনটি বিনিয়োগ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে তৃতীয় প্রান্তিকে একজন প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগ কমিটি গঠন করা হবে।

বিএসআইসি মূলত সিড, লেট-সিড ও সিরিজ-এ পর্যায়ের স্টার্টআপে বিনিয়োগ করবে। ২০২৮ সালের মধ্যে ৮ থেকে ১২টি কোম্পানিকে বিনিয়োগের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ২০২৯ সাল থেকে এসব বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তি অথবা সরাসরি অংশীদারিত্ব বিক্রির মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা হবে।

বিএসআইসির তহবিল কাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। এতে অংশ নেওয়া ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের বার্ষিক নিট মুনাফার সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত তহবিলে দিতে পারবে। ফলে এটি এককালীন মূলধনের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিয়মিতভাবে পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ রাখছে।

‘৪টি হাঁস, জিরাফের ৩টি ক্যাচ, এক সিংহ এবং ক্ষতবিক্ষত এক বাঘ’
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
এক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাবেন দুই প্রতিমন্ত্রী
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
তুরস্কের সঙ্গে ‘অপ্রয়োজনীয়’ উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকিতে নেত…
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
দুঃস্বপ্নের প্রথম সেশন শেষ, লজ্জার রেকর্ডের শঙ্কা
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
গেজেট প্রকাশে আল্টিমেটাম দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে…
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে ফের স্লিপার বাসে আগুন, প্রাণে বাঁচ…
  • ২২ আগস্ট ২০২৬