জাতীয় বাজেট © সম্পাদিত ছবি
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশীয় উৎপাদনমুখী শিল্পখাতকে আরও উৎসাহিত করতে কর রেয়াত, ভ্যাট অব্যাহতি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে শুল্ক সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), রপ্তানিমুখী খাত এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নীতি সহায়তা বাড়ানোর বিষয়টিও বাজেটে গুরুত্ব পাবে।
অন্যদিকে, স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে আমদানিনির্ভর এবং বিলাসবহুল পণ্যের ওপর শুল্ক ও করহার কিছুটা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পদক্ষেপ দেশীয় উৎপাদন জোরদার করার পাশাপাশি বিনিয়োগ প্রবাহ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে
প্রতি অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়াতে কিছু পণ্য ও সেবার শুল্ক-কর বাড়ানো হয়। আবার সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক-কর কমানো হয়। এ কারণে বাজারে সেই সব পণ্যের দাম বাড়ে-কমে। আগামী বাজেটে ভ্যাট ও শুল্ক হার পরিবর্তনের কারণে দাম বাড়তে পারে রড-সিগারেটের। দাম কমতে পারে স্বর্ণ- প্রসাধনী সামগ্রীর। অর্থমন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সিগারেট থেকে প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়। এবারো সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানো হচ্ছে। এতে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়বে। সবচেয়ে বেশি দাম বাড়বে প্রিমিয়াম সিগারেটের। সিগারেট ছাড়াও আধুনিক তরুণদের কাছে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এ দুই পণ্য থেকে আগামী অর্থবছরে মোটা অংকের রাজস্ব আদায় করতে চায় সরকার। বাজেটে ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের সর্বোচ্চ খুরচামূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কসহ মোট ৬২ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে। বিধায় এ পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এছাড়া দাম বাড়তে পারে দেশি মদ-বিয়ারের। কেননা দেশি মদ-বিয়ার উৎপাদনে এতদিন মাদক শুল্ক ছিল, আগামী বাজেটে লিটারে ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা হতে পারে।
গৃহনির্মাণের প্রধান উপকরণ রডের দামও বাড়তে পারে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পর এবার বাজেটে এমএস রডের কাঁচামাল স্ক্র্যাপ শিটের সুনির্দিষ্ট কর টনপ্রতি ৩০০ টাকা এবং এমএস পণ্যের কর ৪০০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা মাছের দামও বাড়তে পারে। কারণ তাজা, ঠান্ডা ও হিমায়িত মাছ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে।
সুগন্ধি ও ওষুধ তৈরি, কীটপতঙ্গ ও ছত্রাক বিনাশ অথবা সমজাতীয় কাজে ব্যবহৃত তাজা, শুকনা, চূর্ণ বা গুড়া অবস্থায় আমদানিকৃত বৃক্ষ বা বৃক্ষের অংশ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে। কাজু বাদাম আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকার যানজট এড়াতে হেলিকপ্টার সেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাজেটে হেলিকপ্টারের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নে ১০ লাখ টাকা উৎসে কর আরোপ করা হচ্ছে। এতে হেলিকপ্টার ভাড়া বাড়তে পারে। বাস ভাড়াও বাড়তে পারে। কেননা বাসের অগ্রিম আয়কর বাড়ানো হচ্ছে।