অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী © সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির বাকি কিস্তি ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে সংস্থাটির মনোভাব ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘এখনও আলোচনা চলছে। আলোচনার মধ্যে যেগুলো এখনও রিজলভড হয়নি, সেগুলো সমাধান হবে।’
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে আইএমএফ পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফ না করেছে কি না, এটা তো তারা বলতে পারবে। আমি কীভাবে (উত্তর) দিব? আমি তো জানি এই ধরনের কোনো আলোচনা... ওই জায়গায় তো আমরা যাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো মনে করি এখনো আলোচনা চলছে। সামনের দিকে যেগুলো এখনও রিজলভ হয়নি, সেগুলো আলোচনার মধ্যে আসবে। এটাই পরিষ্কার সিদ্ধান্ত। এখানে হ্যাঁ, না বলার তো সুযোগ নেই। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া, এক দিনের বা এক ঘণ্টার সিদ্ধান্ত না। এটা চলতেই থাকবে।’
ঋণের বাকি কিস্তি ছাড় হবে কি না—এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবার মধ্যে পজিটিভিটিই দেখছি।’ এ সময় তিনি মাথা নেড়ে সম্মতি জানান।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভায় অংশ নিতে বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিনিধি দল। সেখানে বিভিন্ন বৈঠক চলছে।
এরই মধ্যে খবর আসে, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার শর্ত পূরণ না হওয়ায় আইএমএফ পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে এবং নতুন কর্মসূচির পরামর্শ দিয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, সংস্থা দুটির মনোভাব এখনো ‘খুবই ইতিবাচক’।
তিনি বলেন, ‘সবার অ্যাটিটিউড খুবই পজিটিভ। তবে প্যাকেজটা কী হবে, সেটা অপেক্ষা করতে হবে। এটা এখন বলা যাবে না।’
২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশ ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৬৪ কোটি ডলার পাওয়া গেছে। ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার গত ডিসেম্বরে পাওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত রয়েছে।
অন্যদিকে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাজেট সহায়তার প্রয়োজন এবং বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ অন্তত ৩০০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত সহায়তা প্রত্যাশা করছে বলে জানা গেছে।