শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক © ফাইল ছবি
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অনলাইনে করা বদলি আবেদন সংশোধন, প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন এবং প্রয়োজনে আবেদন ডিলেট করার সুযোগ দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার এ দাবিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বরাবর আবেদন করেছেন শিক্ষকরা। আবেদন এডিট বা বাতিলের দাবি তোলা শিক্ষকদের পক্ষে মো. শাহজাহান মিঞা, শংকর কুমার মল্লিক এবং মেহেদী হাসান এ আবেদন জমা দেন।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে বদলির আবেদন সম্পন্ন করার পর বিভিন্ন কারণে তাদের নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের কারণে বদলির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আবার অনেক আবেদনকারী পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে পূর্বনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে যেতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শূন্যপদ নিয়ে অসঙ্গতি থাকায় অনেকে ভুল প্রতিষ্ঠান বা পদ নির্বাচন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় মাউশির সফটওয়্যারে প্রদর্শিত শূন্যপদের তথ্যের ওপর নির্ভর করেই তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে অনেকেই জানতে পারেন, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত শূন্যপদ নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অনলাইন সিস্টেমে প্রদর্শিত তথ্যেরও মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এতে একদিকে ভুল শূন্যপদ নির্বাচনকারী শিক্ষকরা বিপাকে পড়েছেন, অন্যদিকে পারিবারিক সমস্যা, কর্মস্থল পরিবর্তনের বাস্তবতা কিংবা অন্যান্য অনিবার্য কারণে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও তারা তা করতে পারছেন না।
আবেদনকারীদের আরও অভিযোগ, অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে এডিট এবং ডিলেট অপশন বন্ধ থাকায় ভুল সংশোধন কিংবা আবেদন বাতিলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে জাতীয়করণের কারণে যেসব প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীদের চয়েস লিস্ট থেকে বাদ পড়েছে, তাদের অনেকের আবেদন কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
শিক্ষকদের দাবি, জাতীয়করণের বিষয়টি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। একইভাবে সফটওয়্যারে প্রদর্শিত শূন্যপদের তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অমিল, প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ভুল বা পরিবর্তিত তথ্য এবং আবেদন-পরবর্তী পারিবারিক সমস্যার মতো বিষয়ও অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ফলে এসব কারণে কোনো শিক্ষককে বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হলে তা তাদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হবে।
এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বদলি প্রত্যাশী এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাউশি কর্তৃপক্ষের কাছে অনলাইনে বদলি আবেদনের এডিট অথবা ডিলেট অপশন পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন।
বদলি আবেদনের এডিট অথবা ডিলেট অপশন চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিক্ষকদের কোনো আবেদন এখনো আমার দপ্তরে আসেনি। তবুও বিষয়টি নিয়ে টেলিটকের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’