প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে ধরা পড়ল নিয়োগ-ভর্তি বাণিজ্য, কারাগারে অফিস সহায়ক

৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮ AM , আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ AM
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতির ঘটনায় অফিস সহায়ক কারাগারে

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতির ঘটনায় অফিস সহায়ক কারাগারে © সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আলোচিত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর সব অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য। সাবেক প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার স্বাক্ষর স্ক্যান করে ভুয়া নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিফট পরিবর্তনের মতো গুরুতর জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর অবশেষে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. শাহজামাল শেখকে একমাত্র আসামি করে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় এই এজাহার দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর বেলা ৩টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি অভিযুক্ত অফিস সহায়ক মো. শাহজামালের দাপ্তরিক ও ডরমেটরি রুমে প্রবেশ করেন এবং তাঁর ব্যবহৃত কম্পিউটারটি ওপেন করতে বলেন।

কম্পিউটারে রক্ষিত ফাইলগুলো তল্লাশি করে দেখা যায়, সাবেক জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা এবং বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার মালাকার, দিল আরা চৌধুরী, মো. মাহফুজুল হোসেন ও মুহা. শাহাজাহান আলীর স্বাক্ষর স্ক্যান করা অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে- যা অত্যন্ত গোপনীয় ও দাপ্তরিক জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ।

তদন্তকালে আসামির অফিস কক্ষ থেকে ১০০ টাকা মূল্যের ৪টি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ফাঁকা আসনে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করাতেন শাহজামাল।’

এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, স্ক্যান করা স্বাক্ষর অবৈধভাবে ব্যবহার করে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় শ্রেণির প্রভাতি শিফটের ‘ক’ ও ‘খ’ শাখায় মোট ১৬ জন শিক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণিতে মোছা. জামিয়া সিদ্দিকা নামক এক শিক্ষার্থীকে কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ভর্তি করানো হয়েছে। এছাড়া ২০১৬ সালের একটি ভুয়া যোগদানপত্র ও নিয়োগপত্র এবং কম্পিউটার অপারেটর পদে থেকে অফিস সহায়ক হিসেবে বেতন তোলার মতো অনিয়মের তথ্যও সামনে এসেছে।

এসব বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বলেন, ‘আপাতত কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা আছে। কিছু বলা যাবে না।’

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. শাহজামাল শেখের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ অক্টোবর ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ১৫০০ টাকায় ফাঁসের অভিযোগ উঠলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লুৎফুন নাহারের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা এডিসিকে (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই কম্পিউটার স্ক্যান করে একে একে এই বিশাল জালিয়াতি ও দুর্নীতির থলের বেড়াল বেরিয়ে আসে।

মধ্যপ্রচ্যের এক দেশে তৈরি হচ্ছে স্বর্ণখচিত রাস্তা! কেমন হবে…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
প্লুটোর কাছেই লুকিয়ে ছিল নতুন বামন গ্রহ, ক্যামেরায় ধরা পড়েও…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত? 
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর …
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
কলেজের জানালা-গ্রিল ও ফ্যান চুরির অভিযোগে শাখা ছাত্রদল সভাপ…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
আমার কণ্ঠ স্তব্ধ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬