কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় © টিডিসি ফটো
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে বছরের প্রায় অর্ধেক সময় জমে থাকে পানি। জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থীদের ভরসা এখন বাঁশের সাঁকো। এমনকি নেই সীমানাপ্রাচীর ও খেলার মাঠ। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চললেও বিদ্যালয়ের এমন প্রতিকূল পরিবেশে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম।
একের পর এক সমস্যা আর দুর্ভোগের কারণে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমছে আশঙ্কাজনক হারে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২৫০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১২০ জনে।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে ৩৩ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ১১৬ নম্বর কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘসময় ধরে সুনামের সঙ্গে চলেছে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম। শিশুদের পদচারণায় মুখর থাকত প্রাঙ্গণ। তবে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, খেলার মাঠের অভাব ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যায় সেই পরিবেশ এখন অনেকটাই বদলে গেছে। বিদ্যালয়ের সামনের মাঠটি দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একটি পুকুর।
প্রতিবছর জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকে। ফলে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও বের হতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন শিক্ষকরা। ছোট ছোট শিশুদের এভাবে সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
আরও দেখুন: ১৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল
বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো সীমানাপ্রাচীর। ফলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি খেলার মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না। নিয়মিত সমাবেশ আয়োজনেও তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশের অভাবও প্রকট হয়ে উঠেছে।
শিক্ষকসংকটও রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। প্রধান শিক্ষকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় একজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছয়টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন পাঁচজন শিক্ষক। জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও শিক্ষকসংকট মিলিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষার্থী কমে যাওয়াকে বিদ্যালয়টির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী ছিল ২৫০ জন। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে শিক্ষার্থী কমেছে ১৩০ জন। বিদ্যালয়ের প্রতিকূল পরিবেশের কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা ও শহরের বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
আরও দেখুন: সরকার পতনের আন্দোলনে জনগণ আপনাদের সঙ্গে থাকবে না: সংসদ সদস্য নুরুল আমিন
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী কমার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। এতে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান বলেন, ‘নানা সমস্যার কারণে কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই বছরের ব্যবধানে ১৩০ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
আরও দেখুন: অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বড় নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
বিদ্যালয়টির জলাবদ্ধতা নিরসন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, খেলার উপযোগী মাঠ তৈরি এবং শিক্ষকসংকট দূর করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, শিশুদের নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি অভিভাবকদের আস্থাও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।