গ্রেপ্তার সায়েল মিয়া © সংগৃহীত
শখ করে কেনা আইফোনের প্রতি লোভ থেকে বন্ধু তারেক মিয়াকে (২১) হত্যা করে ফোনটি চুরি করেন সায়েল মিয়া (২০)। পরে আইফোনটি মাত্র ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করে সেই টাকায় নতুন জামা ও একটি বাটন ফোন কেনেন তিনি। নিখোঁজ তারেকের খোঁজ করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সায়েলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে হবিগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে নবীগঞ্জের নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ।
নিহত তারেক মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার চৌশতপুর গ্রামের মারফত উল্লাহর ছেলে। আসামি সায়েল একই গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর রাতে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ শেষে তারেক ও সায়েল একসঙ্গে ছিলেন। দুজনই ওই ভবনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। ওই রাতে তারেকের আইফোন-১১ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে সায়েল তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে মরদেহ পাশের একটি ডোবায় ফেলে আইফোনটি নিয়ে চলে যান।
পরদিন আইফোনটি হবিগঞ্জ শহরের এক ব্যক্তির কাছে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেন সায়েল। সেই টাকা দিয়ে নতুন জামা ও একটি বাটন ফোন কিনে বাড়ি ফেরেন তিনি।
এদিকে তারেক বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজ শুরু করেন। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরিবারের সদস্যরা সায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তারেক কুমিল্লায় অন্য একটি কাজে গেছেন বলে জানান। এতে সন্দেহ হলে তারেকের পরিবার নবীগঞ্জ থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নেমে মঙ্গলবার সায়েলকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ ও লাখাই থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ফুলবাড়িয়া গ্রামের একটি ডোবা থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন গণমাধ্যমে বলেন, সায়েল পুলিশকে স্পষ্ট করে বলেছেন, বন্ধুর আইফোনের প্রতি তাঁর লোভ ছিল। ফোনটি নিজের কবজায় নিতে তারেককে হত্যা করেন। পাশাপাশি আইফোনটি ঘটনার পরদিন সায়েল হবিগঞ্জ শহরের এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। এ টাকা দিয়ে সায়েল নতুন জামা ও একটি বাটনফোন কিনে বাড়ি ফেরেন।
এ ঘটনায় তারেকের বাবা বাদী হয়ে সায়েলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। বুধবার হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে তারেকের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।