প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একদিনে দুইজনকে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিবিরবাগিচা এলাকায় নিশাত (২৭) নামে এক যুবককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরদিন বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ধলপুর সিটি গলির পাশে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মারুফ হোসেন দুখু (২০) নামে এক তরুণ নিহত হন।
নিহত নিশাত পেশায় পিকআপচালক ছিলেন। তার বোন শারমিন আক্তার জানান, মঙ্গলবার সকালে পূর্বশত্রুতার জেরে বিবিরবাগিচা ৪ নম্বর গেট এলাকায় তার ভাইকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। খবর পেয়ে তারা নিশাতকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
শারমিন আক্তার জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায়। তাদের বাবার নাম মহসিন। নিশাত যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচা সুতিখালপাড় এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তার এক সন্তান রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ধলপুর সিটি গলির পাশে মারুফ হোসেন দুখুকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মারুফ ধলপুর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।
মারুফের স্ত্রী মিম জানান, তার স্বামী সায়েদাবাদ মালঞ্চ সেন্টারের পাশে একটি গলিতে পাতিল তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। পথে বাসার পাশেই সিটি পল্লীর মাঠে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিম বলেন, তার স্বামী খুব ভালো মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে তার কোনো দ্বন্দ্ব বা ঝামেলা ছিল না। কারা এবং কী কারণে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তা তিনি জানেন না।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।