বাঁ থেকে অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ ও কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর © সংগৃহীত
ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদের মুঠোফোনে আসে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের একটি অস্পষ্ট ছবি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সকাল সোয়া ৬টার দিকে একই প্রশ্নপত্রের আরও স্পষ্ট ছবি পাঠান এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর। এরপর প্রশ্নপত্রের উত্তর তৈরি করে তা চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের মাধ্যমে প্রশ্ন ও উত্তর পৌঁছে যায় সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের কাছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুঠোফোনের বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। সংস্থাটির দাবি, চক্রের সদস্যরা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পরিচিত পরীক্ষার্থীদের কাছে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্য পদের নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। তবে পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
এ ঘটনায় ছায়া তদন্তের পর ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি। তাঁদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর ছাড়াও এনবিআরের আরেক কর্মচারী এস এম ইমদাদুল ইসলাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী আসাদুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মচারী মো. রুবেল ইসলাম এবং মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন রয়েছেন।
এসআরবির দাবি, নূর মোহাম্মদ প্রশ্নপত্রের ছবি পাওয়ার পর উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুল ইসলামের কাছে পাঠান। পরে চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ কাজে আসাদুল ইসলাম, রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও সুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে এসআরবি। চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে যোগাযোগ করতেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো শনাক্ত হয়নি। নূর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর কার কাছ থেকে প্রশ্নপত্র পেয়েছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা সে বিষয়ে সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি বলে জানিয়েছে এসআরবি।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কি না, জানতে চাইলে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, তদন্ত শেষে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা যাবে।