"চাষা-ভূষার বৈশাখ উন্মোচন-১৪৩৩" শীর্ষক অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ © টিডিসি
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে এক ভিন্নধর্মী আয়োজনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন 'উন্মোচন'।
গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে "চাষা-ভূষার বৈশাখ উন্মোচন-১৪৩৩" শীর্ষক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনটি তাদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
গণবিপ্লবী উদ্যোগের প্রতিনিধি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা আরিফ সোহেল বলেন, উন্মোচন এর আক্ষরিক অর্থ ঢেকে রাখা বিষয়গুলো প্রকাশ করা। উন্মোচনের প্রথম আয়োজন এই স্পিরিটকে সম্মান করে। পহেলা বৈশাখের শহুরে যে প্রতিচ্ছবি আর উদযাপন তা এসেছে গ্রাম বাংলার জীবন থেকে। কিন্তু সেই জনগোষ্ঠীর জীবন থেকে এই উপাদান এসেছে তাদের নিয়ে চর্চা হয় না। এই জীবনবিচ্ছিন্নতার সংস্কৃতির সমাধানে উন্মোচনের এই আয়োজন সাধুবাদের দাবিদার।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ তার বক্তব্যে বলেন, শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণি উৎসবের আমেজ পেলেও আমাদের আদি পরিচয় যে কৃষক, তা আমরা ভুলতে বসেছি। কৃষকদের সমস্যাগুলো আজও সমাধান হয়নি। 'উন্মোচন'-এর মতো উদ্যোগ প্রমাণ করে আমাদের যুবসমাজ এখনো কৃষকদের কথা ভাবছে।
ছাত্রদল থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, পহেলা বৈশাখে নানা আধুনিক আয়োজনের ভিড়েও উন্মোচন বাংলার কৃষকের কথা ভেবে তাদের গুরুত্ব তুলে ধরছে— এজন্য তারা সত্যিই ধন্যবাদযোগ্য। কারণ এই উৎসবের আসল প্রাণ আসলে কৃষক, যাদের শ্রমে বাংলার জীবন ও সংস্কৃতি টিকে আছে। বাংলার কৃষি বহু পুরাতন ঐতিহ্যের ধারক হলেও আজকের আধুনিক যুগে এসে কৃষকরা সেই আধুনিকতার সুবিধা পুরোপুরি পাচ্ছে না। প্রযুক্তি, বাজার সুবিধা কিংবা নীতিগত সহায়তায় তারা পিছিয়ে আছে। তাই উন্মোচনের মতো প্রতিষ্ঠান যখন কৃষকের কথা মনে রাখে, তখন তা শুধু একটি সাংস্কৃতিক দায়িত্ব নয়, বরং কৃষি ও কৃষকের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সত্যকে নিরপেক্ষভাবে প্রকাশিত করা এবং সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সেই সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা'—এটিই উন্মোচনের মূলনীতি।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, উন্মোচনের সদস্য মোহাম্মদ মাজেদুর রহমান, তাপসী রাবেয়া, তরিকুল ইসলাম, তানজিনা তাম্মিম হাপসা এবং রেদওয়ান হোসেন মৃধাসহ আরও অনেকে। দিনব্যাপী এই আয়োজন বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়।