সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের বাবা

‘আমার ছেলেও গেল, বোনও গেল—সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব’

১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২২ PM
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল ও তার বাড়িতে স্থানীয়দের ভিড়

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল ও তার বাড়িতে স্থানীয়দের ভিড় © টিডিসি সম্পাদিত

‘আমার ছেলেও গেল, বোনও গেল। সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব’—সৌদি আরবে ছেলে নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়ার পর এমনই আর্তনাদ তার বাবা আবদুল বাছিরের। একদিকে পরিবারের বড় ছেলেকে হারানোর শোক, অন্যদিকে একই খবর সইতে না পেরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ফুফু আবেদা বেগমের মৃত্যু—পরপর দুই আঘাতে ভেঙে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের পরিবারটি। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন আবদুল বাছির। এখন স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি সেই ঋণ কীভাবে শোধ করবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় তিনি।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে সৌদি আরবে নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হলে তা জানতে পারে তার পরিবার। স্বজনদের ভাষ্য, খবরটি জানার পর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। ওই দিন রাতেই মারা যান তিনি।

নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড়। পরিবারের অভাব ঘোচানোর আশায় ২০২২ সালে সাত লাখ টাকা ঋণ করে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার সাত-আট মাস পর থেকে নজরুলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে কারাগার থেকে ফোন করে তিনি জানান, বন্দি রয়েছেন। তবে কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছিল, তা পরিবারকে বিস্তারিত জানাননি। প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকার পর গত ১৪ অক্টোবর গণমাধ্যমের খবর থেকে তারা নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানতে পারেন।

ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন বাবা আবদুল বাছির। এর মধ্যে বোন আবেদা বেগমের মৃত্যুও তাকে আরও অসহায় করে তুলেছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

আবদুল বাছির বলেন, ‘আমার ছেলেও গেল, বোনও গেল। সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলাম। এখন কীভাবে এই ঋণ শোধ করব, তাও জানি না। সরকারের কাছে দাবি, আমার ছেলের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।’

নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তিনি যথাযথ আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার বাবা। আবদুল বাছিরের ভাষ্য, কারাগারে থাকার সময় নজরুল তাকে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আইনি সহায়তা কিংবা কনস্যুলারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে পরিবার নিশ্চিত নয়।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরলে পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইউরোপের দেশ আলবেনিয়া
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
৮ মাস বয়সী বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর শাস্তির কবলে বাংলাদেশ
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
জামায়াত-এনসিপির সাইবার বুলিংয়ের কারণেই ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
আল্লাহর বাড়ি গিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া ঠিক না
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬