সৌদি আরবের পতাকা © ফাইল ফটো
সৌদি আরবের মক্কার একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে ‘অনৈতিক’ কাজের দায়ে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশি নাগরিক নারী-পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া দাবি ছড়ানো হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে- তারা পরস্পরের স্বামী-স্ত্রী এবং নবদম্পতি, ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবের গিয়েছিলেন। তাছাড়া মসজিদে কপালে চুমু দেওয়ার কারণে ওই দুই তরুণ-তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অবশেষে তাদের দুইজনের বিষয়ে মুখ খুলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আজ সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী। তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়। অন্যজন কুমিল্লার বাসিন্দা।
আকাশ পথের যোগাযোগ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও এ সময় জানান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আজেল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই বাংলাদেশি হলেন- নজরুল ইসলাম আবদুল বসির এবং সিথি আক্তার। নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলাটি আদালতে স্থানান্তর করা হলে বিচারক তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।
তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ঢাকাকে কিছু জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠিতে ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে গত ১৭ অক্টোবর বিবিসি বাংলায় এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যে দুজনের শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে তাদের বিষয়ে কোনো তথ্যই এখনো বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।