৫ বছরের শিশু আব্দুর রহমান তাসিন হত্যাার ঘটনায় অজ্ঞাতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন। © টিডিসি সম্পাদিত
ঢাকার আশুলিয়ায় একটি ছাদে নিখোঁজ হওয়া ৫ বছরের শিশু আব্দুর রহমান তাসিনের গলায় লাল টেপ প্যাঁচানো এবং মুখের ভেতর চাল ও পলিথিন ঢোকানো অবস্থায় লাশ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজনসহ এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভাদাইল এলাকায় এ মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাত্র পাঁচ বছরের শিশুকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের নিখোঁজ হয় শিশু তাসিন। এর প্রায় ১০ মিনিট পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়িওয়ালার স্ত্রী রিনা বেগম ভবনের ছাদে হাঁসকে খাবার দিতে যান। এ সময় নেটের নিচে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান তিনি। কাছে গিয়ে বস্তার ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয়রা ছাদে ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় শিশুটির হাত-পা ও মুখ কস্টেপ দিয়ে বাঁধা এবং গলায় টেপ প্যাঁচানো এবং মুখের ভেতর চাল ও পলিথিন ছিল বলে জানায় পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত আব্দুর রহমান তাসিন জামালপুরের মেলান্দহ থানার বাগবাড়ি এলাকার মো. শহিদ মিয়ার ছেলে। পরিবারের সঙ্গে আশুলিয়ার ভাদাইল বাজার চৌরাস্তা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় ভাড়া বাসায় থাকত সে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে কীভাবে ওই ভবনের ছাদে নেওয়া হলো, কারা তাকে সেখানে নিয়ে গেল এবং হত্যার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপ যেন কাজ না করে, সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।
তারা বলেন, তাসিন হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়, এটি পুরো এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। হত্যাকারী যে-ই হোক, দ্রুত তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক শেখ রাসেল জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত শিশুর বাবা বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি করছি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। কারা এবং কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
তাসিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ভাদাইলের পরিবেশ। নিষ্পাপ শিশুটিকে কারা এবং কেন হত্যা করেছে, সেই রহস্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন তারা।