গাজীপুরের টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তিতে জিএমপির অভিযান © টিডিসি ফটো
গাজীপুরের টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তিতে মাদক কারবার ও প্রকাশ্যে মাদক সেবন বন্ধে অবৈধ বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। বুধবার (২২ জুলাই) পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার যৌথ উদ্যোগে বস্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও মাদক সেবনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বস্তিটির বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও কেনাবেচার অভিযোগে এর আগে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের পাশাপাশি মাদক স্পট হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদারের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের উপস্থিতিতে বুধবারের অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নাজিমুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। অভিযানে বস্তির বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে নেওয়া বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদক কারবার ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদক স্পটগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মাদক কারবারিদের অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহায়ক পরিবেশ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে হাজীর মাজার বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় জিএমপি। ওই অভিযানে ৪০ জনকে আটক এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে বস্তিটিতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘প্রথাগত অভিযানের পাশাপাশি মাদক স্পটগুলোর বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও ইন্টারনেট সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হাজীর মাজার বস্তির মতো এত বড় পরিসরে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের চিত্র দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। এটি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ ছিল। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।’
জিএমপি সূত্র জানায়, টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদক কারবার ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদক বিক্রির আখড়া হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। একই সঙ্গে অবৈধ বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও ইন্টারনেট সংযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।