প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় গত ২০ দিনের ব্যবধানে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে পরকীয়ার জেরে হত্যা, আত্মহত্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং রহস্যজনক মৃত্যু, যা স্থানীয় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (৮ মার্চ) চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার হরিনা গ্রামে মেয়েকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় পিতা জাকির হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি ইউনিয়নের হাঁপানিয়া গ্রামে (২৮ ফেব্রুয়ারি) শনিবার পরকীয়ার জেরে বৃদ্ধা পারুল বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরকীয়ার জেরে মতলব উত্তরের ষাটনল ইউনিয়নের রঙ্গুখারকান্দির গ্রামের শাকিলা আত্মহত্যা করেন। ৪ মার্চ বুধবার মতলব উত্তরের বালুচর ১ নম্বর ওয়ার্ডে আইএফআইসি ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করে। মতলব দক্ষিণের বাইসপুর গ্রামে অলক কুমার মহন্ত নামের এক বিক্রয় কর্মীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার মতলব দক্ষিণের নলুয়া গ্রামে পানির পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে মা রিনা বেগম ও তার ছেলে এনামূল হক রাসেল খান বিদ্যুৎ স্পষ্ট হয়ে মারা যান।
এলাকাবাসীর দাবি, অল্প সময়ের ব্যবধানে এতগুলো প্রাণহানি স্বাভাবিক নয়।
মতলব উত্তরে ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেনজির আহমেদ মুন্সী বলেন, ‘সামাজিক অস্থিরতা ও বিষণ্ণতা রোধে পারিবারিক কাউন্সিলিং খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।’
এ বিষয়ে চাঁদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীবকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘মতলবে স্বল্প সময়ের মধ্যে কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে পুলিশ গুরুত্ব সহকারে খোঁজখবর নিচ্ছে এবং আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো ঘটনায় অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’