গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ ও দোয়া

গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করেন মুসল্লিরা
গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করেন মুসল্লিরা   © সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত বর্বর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথকভাবে এ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় মুসল্লি ও শিক্ষার্থীরা।

রাজশাহী শহরের সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি সাহেব বাজার, মাদ্রাসা মোড়, বড়বাজার, টিআইএম শপিং মলসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন মসজিদের ইমাম মো. আশরাফুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. সিদ্দিক। তারা বলেন, “ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। আমাদের প্রতিবাদ বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে হবে, যেন তারা এ বর্বরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।”

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে শিক্ষার্থী ও মুসল্লিরা আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তালাইমাড়ি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের পর সেখানে ফিলিস্তিনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’, ‘ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর বর্বরতা বন্ধ কর’, ‘আমরা ফিলিস্তিনের পাশে আছি’—এমন নানা স্লোগানে গর্জে ওঠেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর চলমান নিপীড়ন দেখে তারা ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের হামলা প্রতিনিয়তই বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুদের ওপর যে অত্যাচার হচ্ছে, তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমরা প্রতিবাদ না জানালে বিশ্ববাসী কখনোই এসব বর্বরতা দেখতে পাবে না।”

আরেক শিক্ষার্থী মিলন মিয়া বলেন, “এটা শুধু যুদ্ধ নয়, এটি এক ধরনের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। মুসলিম উম্মাহর উচিত একত্রিত হয়ে গাজার নিরীহ মানুষদের রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। আমরা চাই বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা হোক।”

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, শুধুমাত্র দোয়া নয়, বর্বরতার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মুসলিম বিশ্বের উচিত একসঙ্গে রুখে দাঁড়ানো।

একইসঙ্গে রাজশাহীর মুসল্লিরাও বলেন, “গাজার শিশু, নারী, বৃদ্ধ কেউই নিরাপদ নয়। আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবিলম্বে ইসরায়েলের আগ্রাসন থামাতে উদ্যোগ নিক।”

রাজশাহী মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজ শেষে ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর ইসরায়েলের বর্বর হামলার প্রতিবাদে দোয়া করা হয়। ফিলিস্তিনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর কাছে মোনাজাত করা হয়।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় নতুন করে বিমান ও স্থল হামলা শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এ হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।


সর্বশেষ সংবাদ