প্রথম হয়েও পুলিশে চাকরি হলো না মীমের

১১ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৫৩ PM
মীম আক্তার

মীম আক্তার © সংগৃহীত

পুলিশের কনস্টেবল পদে সাধারণ নারী কোটায় মেধা তালিকায় প্রথম হয়েও জেলায় জমি না থাকায় এবার পুলিশে চাকরি পাচ্ছেন না খুলনার মীম আক্তার। শনিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, খুলনায় স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় চাকরিটি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। 

মীম আক্তার খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার ৩ নম্বর আবাসিক এলাকার ১ নম্বর রোডের ডা. বাবর আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া। মিমের বাবা মো. রবিউল ইসলাম খুলনার বয়রা ক্রস রোডে ভাড়ায় ছোট্ট একটি দোকান নিয়ে লেপ-তোশকের ব্যবসা করেন। দোকানটির নাম বেডিং হাউস।

মীম বলেন, কনস্টেবল পদে সাধারণ নারী কোটায় আবেদনের পর ২৫ অক্টোবর খুলনা শিরোমনি পুলিশ লাইন্সে শারীরিক যোগ্যতা যাচাই হয়। ২৫, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর তিন দিন ধরে চলা শারীরিক যোগ্যতা যাচাইয়ে আমি উত্তীর্ণ হই। এরপর ২৮ তারিখে লিখিত পরীক্ষা হয় খুলনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এতে উত্তীর্ণ হই। এরপর মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হই। ফলাফলে জানতে পারি আমি মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছি। 

আরও পড়ুন: আসপিয়ার জন্য অনশনে বসার ঘোষণা নির্মলেন্দু গুণের

তিনি আরও বলেন, এরপর খুলনা জেলা পুলিশ লাইন্সে সাধারণ মেডিকেল পরীক্ষা হয়। সেখানেও উত্তীর্ণ হয়েছি। তারপর  ১২ নভেম্বর রাতে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে। সেখানে ১৩ নভেম্বর সকালে মেডিকেল পরীক্ষা হয়। তারপর বাড়িতে ফিরে আসি। সেখা থেকে বলা হয়েছিল, পরবর্তীতে ফলাফল জানানো হবে। এরপর পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু হয়। সোনাডাঙ্গা থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও সিটিএসবি থেকে বাড়িতে তদন্তে আসে। তাদের কাছে ভূমিহীন সার্টিফিকেট জমা দিয়েছি। 

তারা বলেছিলেন, ৫ ডিসেম্বর আমাকে জানাবেন। ফোন দিয়ে ৭ তারিখে জেলা পুলিশ লাইন্সে ফিঙ্গার প্রিন্টের জন্য ডাকা হয়। সেখানে পাঁচ আঙুলের ছাপ দিয়ে এসেছিলাম। সেখান থেকে বলেছিল, পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর থেকে আর কিছুই জানায়নি।

আরও পড়ুন: আসপিয়ার জন্য অনশনে বসার ঘোষণা নির্মলেন্দু গুণের

মীম বলেন, যারা ফিঙ্গার দিয়ে এসেছিল তাদেরকে ফোন দিয়ে চাকরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কিন্তু আমাকে কিছু না জানানোর কারণে আমি শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) জেলা পুলিশ লাইন্সে গিয়েছিলাম। তারা কিছুই জানেন না জানিয়ে এসপি স্যারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এরপর শনিবার (১১ ডিসেম্বর) খুলনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গিয়েছি। পুলিশ সুপার স্যারকে পাইনি। ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির আহম্মেদ স্যারের সঙ্গে দেখা হয়েছে। স্যার বলেছেন, তোমার সব ঠিক আছে। তবে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় তোমার চাকরিটা আমরা দিতে পারছি না। কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে এসেছি। ভূমিহীন বলে আমার চাকরি হবে না। আমার জন্ম খুলনায়। জন্মসনদ খুলনা সিটি করপোরেশনের।  

খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহম্মেদ বলেন, মেয়েটা সব দিক দিয়েই পারফেক্ট। মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছে। তবুও পুলিশের রুলসের কারণে আমরা তাকে নিতে পারছি না। ঘটনাটি বরিশাল জেলার আসপিয়ার ঘটনার মতই। আমরা তাকে নিতে চাই তবে নিয়মের কারণে আটকে গেছি।

তিনি আরও বলেন, তাকে নিয়োগ পেতে হলে জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। জন্ম এখানে হলে বা জন্মসনদ এখানে থাকলেই হবে না। তার স্থায়ী ঠিকানা লাগবে। সেটি মীমের নেই। বাগেরহাটে তার চাচা, বাবা ও মামাদের কিছুটা জমি রয়েছে। সে যদি বাগেরহাট জেলা থেকে আবেদন করতো তবে সেটি ঠিক ছিল।

এর আগে বরিশালে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করার পর মেধা তালিকায় পঞ্চম হয়েও স্থায়ী ঠিকানার অভাবে হিজলা উপজেলার আসপিয়া ইসলাম কাজলের চাকরি হয়নি। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে মেয়েটির পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর ও জমি প্রদানের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এখনো আছপিয়ার পুলিশে চাকরি পাওয়া নিয়ে জটিলতা রয়েই গেছে।

রাজশাহী থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা
  • ১৮ মে ২০২৬
শিক্ষার্থীদের ‘ব্লকেডে’ অচল ডুয়েট
  • ১৮ মে ২০২৬
কারিগরির এইচএসসি ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার সংশোধিত কেন্…
  • ১৮ মে ২০২৬
মোটরসাইকেল চোর চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার, ৩২ মোটরসাইকেল উদ্ধ…
  • ১৮ মে ২০২৬
মিরসরাইয়ে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল কিশোরের
  • ১৮ মে ২০২৬
স্কাউটে রাষ্ট্রপতি পদক পেলেন কুবি শিক্ষার্থী কিশোর কুমার
  • ১৮ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081