প্রাথমিকে প্যানেল শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে লাগাতার অবস্থান

১১ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৫০ PM

© টিডিসি ফটো

২০১৮ সালে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৫৫ হাজার প্রার্থীকে প্যানেল করে নিয়োগের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে নিয়োগপ্রত্যাশীরা। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে সেখানে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল প্রত্যাশীদের ব্যানারে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, তাদের এই দাবি আদায়ে টানা সেখানে অবস্থান করবেন। বিষয়টি রবিবার সন্ধ্যায় বাকী বিল্লাহ তুহিন নামের এক অংশগ্রহণকারী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করে জানান, আজ রাতে তারা সেখানে অবস্থান করবেন। প্রয়োজনে দাবি আদায়ে লাগাতার অবস্থান করার কথাও জানান তিনি।

এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিয়োগপ্রত্যাশীরা বলেন, ২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রথম সারাদেশ থেকে প্রায় ২৪ লাখ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্য হতে ৫৫ হাজার ২৯৫ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। যা থেকে বোঝা যায়, যারা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা সবাই মেধাবী। তাই, মুজিববর্ষে প্যানেল করে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী প্রার্থীদের নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।

তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, মুজিববর্ষে কেউ বেকার থাকবে না। এছাড়া ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেলিন তিনি। তাই আমরা আশা করি, মুজিববর্ষে এই ৩৭ হাজার চাকরি প্রার্থীকে প্যানেল করে নিয়োগ দিলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির অনেকাংশ বাস্তবায়ন হবে। কারণ, দেশের ৬১টি জেলার সব উপজেলার যোগ্য প্রার্থীরাই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

নিয়োগপ্রত্যাশীরা জানান, বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিনে তার আদর্শ কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের জোড়ালো দাবি, তার পিতার মতো যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৩৭ হাজার মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বেকার ও তাদের পরিবারের সবার মুখে হাসি ফুটাবেন।

শিক্ষাজীবনে সেশনজটের কথা উল্লেখ করে চাকরিপ্রত্যাশীরা বলেন, আমাদের পড়ালেখার সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চরম সেশনজট ছিল। অন্যদিকে, সার্টিফিকেট পাওয়ার পর হাইকোর্টের রিট জটিলতার কারণে ২০১৪-২০১৮ পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের কোনো বিজ্ঞপ্তি হয়নি। এমনকি ২০১০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত কোনো প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও হয়নি। যদিও বর্তমানে চরম শিক্ষক সংকট বিদ্যমান। এদিকে করোনার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুও করা যাচ্ছে না। অথচ আগে ৬ মাস পর পর সহকারী শিক্ষক ও ২ বছর পর পর প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হতো। তাই আমরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এসময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা শেষ হওয়ায় এটাই তাদের শেষ সুযোগ বলেও উল্লেখ করেন তারা।

তারা আরও বলেন, জাতীয় সংসদের তথ্য মতে, ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত শূন্য পদের সংখ্যা প্রায় ২৯ হাজার। নতুন বছরে অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন। সে হিসেবে বর্তমানে শূন্যপদের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। একটি নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করতে প্রায় দেড় থেকে ২ বছর লেগে যায়। এছাড়াও পিটিআই, বিপিএড, মাতৃজনিত ছুটি, চিকিৎসা জনিত ছুটি ও বদলি জনিত কারণে সারা বছরেই প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ পদ শূন্যই থেকে যায়। ফলে তীব্র শিক্ষক সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

নিয়োগপ্রত্যাশীরা বলেন, প্যানেলের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করলে নিয়োগ বাণিজ্য ও কালক্ষেপন বন্ধ হবে। শূন্যপদের ভিত্তিতে সার্কেল প্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন প্যানেল প্রত্যাশীরা।

সাতকানিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে চুরি, ১৫ ফ্যানসহ বৈদ্যুতি…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
তদন্তে কমিটি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকবে সরকার
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
বদলি আদেশ ‘রহস্যজনকভাবে’ স্থগিত, ‘টাকার খেলায়’ হৃদরোগ হাসপা…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
রাত ১টার মধ্যে দেশের যেসব অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা 
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার শঙ্কা, রাজধানীতে ৯ ধাপে নিরাপত্তা ব্য…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামে শিপইয়ার্ডে শ্রমিকের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইয়ার্ডে…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬