স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে প্রতিটি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরী করে দেয়ার দাবি জানিয়েছে মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস । বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা” শীর্ষক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটির সদস্যরা। এসময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৪টি দাবি পেশ করা হয়।
সংগঠনটির প্রথম দাবি হলো, বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে সরকারি-বেসরকারি সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী,শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাজেটের ভিতরে এনে সুপরিকল্পিত একটি নীতিমালা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা শিক্ষার আলো থেকে ঝরে পড়ে তাদেরকে কর্মক্ষম করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বিজ্ঞানসম্মত কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা দরকার। শুধু দেশ নয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যেন শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা যায় সে ধরনের সিলেবাস প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রত্যেক মানুষের খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীতা উল্লেখ করে দ্বিতীয় দাবিতে বলা হয়, মানুষ প্রয়োজনীয় খাবার না পেয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে খাদ্য সরবরাহ আরও সুলভ করা প্রয়োজন। খাদ্য উৎপাদনে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ভর্তুকিসহ আরো সহজ শর্তে ঋণ, অনুদান দিতে হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সকলকে পারদর্শী করার যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তৃতীয় দাবি হলো, চিকিৎসা খাত নিয়ে। সংগঠনটির মতে চিকিৎসা খাতটি এখন অনেকাংশে বেসরকারি হাতে চলে যাচ্ছে। এতে প্রচুর ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্যে কষ্টসাধ্য হচ্ছে। কমিউনিটি হাসপাতাল, থানা স্বাস্থ্য কমফ্রেক্সকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোকে আরও সম্প্রসারণ করা ও অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা প্রয়োজন। এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বশীলতা আরও বৃদ্ধি ও পর্যবেক্ষণ করা দরকার।
মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস এর চতুর্থ দাবি হলো কর্মসংস্থান নিয়ে। প্রতিটি ব্যক্তির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে প্রতিটি মানুষের হাতে কাজ চাই’ এই শ্লোগানে কাউকেই আর শ্রমবিহীন রাখা যাবে না। সবাইকে যোগ্যতা ও স্বামর্থ অনুযায়ী কাজে নিয়োজিত করার যাবতীয় কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্প-বাণিজ্য, বৈদেশিক বাণিজ্য, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক নিরাপত্তা, তথ্য-প্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, খনিজ ও জ্বালানী, প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগানো, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহারের যাবতীয় প্রযুক্তি-প্রশিক্ষণ, শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন নিশ্চিতকরণ, ক্রীড়া-উন্নয়ন, সবক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
সংবাদ সম্মেলনে মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস আহ্বায়ক ফারুক আহমাদ আরিফ লিখিত বক্তব্যে বলেন, মানুষের পরিচয়ই হচ্ছে তার কাজ। কাজ যদি না থাকে তবে মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিচালিত (২০১৬-১৭ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী) সর্বশেষ ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপে জানা যায়, দেশে মোট কর্মোপযোগী মানুষের সংখ্যা ১০কোটি ৯১ লাখ। এরমধ্যে কর্মে নিয়োজিত ৬ কোটি ৮ লাখ। বাকি ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ কর্মক্ষম তবে শ্রমশক্তির বাইরে। তাদের মধ্যে ১৫ বছরের বেশি বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার। আর ২০১৫-১৬
অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ। এক্ষেত্রে এক বছরে বেকার বেড়েছে ৮০ হাজার। উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১১ দশমিক ২ শতাংশ। কর্মে নিয়োজিত ৬ কোটি ৮ লাখ মানুষের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে ২ কোটি ৪৭ লাখ, শিল্পে ১ কোটি ২৪ লাখ এবং সেবা খাতেযুক্ত ২ কোটি ৩৭ লাখ মানুষ। কর্মক্ষম তবে শ্রমশক্তির বাইরে থাকা ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজারের মধ্যে নারীর সংখ্যা তিন কোটি ৬৩ লাখ ৩৩ হাজার এবং পুরুষ ১ কোটি ১৯ লাখ ৪৭ হাজার। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)র তথ্যানুযায়ী দেশের মোট বেকার জনগোষ্ঠীর ৮০ শতাংশই যুবক। এসব যুবকের প্রায় ৩০ শতাংশের কোনো কর্ম, প্রশিক্ষণ বা শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। (৫ নভেম্বর-২০১৮) ২০২১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছরে পদার্পণ করবে। সে উপলক্ষে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে প্রতিটি মানুষের হাতে কাজ চাই’। এ ক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকারই এর ব্যবস্থা করবে বলে তিনি দাবি করেন। কিভাবে পরিকল্পনা নিলে দেশের প্রতিটি মানুষকে শ্রমে নিয়োজিত করা যায় সেই চিন্তাটি সামনে রেখে যেন নির্বাচনী ইশতিহার প্রণয়ন ও নির্বাচিত হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা হয় তা আশা করছি