চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ © ফাইল ফটো
সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘোষণা আসে।
এর আগে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন ‘মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ’। পরে এই আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করে আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খান। তিনি এই আন্দোলনকে সচল রাখতে সব জায়গায় কমিটি গঠনেরও পরামার্শ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দাবি আদায়ে প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে শাহবাগ অবস্থানের কর্মসূচি থাকলেও সোমবার সন্ধ্যায় অবস্থান নেয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ। এসময় তারা সব ধরণের সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। প্রায় অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী শাহবাগে এসে জড়ো হলে রাজধানীর ব্যস্ততম এ সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরে আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করতে শাহবাগে আসেন নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খান। এসময় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন সমন্বয় পরিষদের মুখপাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন নতুন গঠিত ‘মুক্তিযুদ্ধ চেতনা সমন্বয় পরিষদের’ কাছে কর্মসূচী ঘোষণা করার দায়িত্ব দেন।
পরিষদের সদস্য সচিব ওসমান আলী ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ চেতনা সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান।
সভাপতির বক্তৃতায় নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে গড়ে ওঠা ‘মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ’ থেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা চেতনা মঞ্চ’ করা এবং এই আন্দোলন সচল রাখতে সকল জেলা ও বিভাগে কমিটি গঠন করা হবে। এসময় তিনি কর্মসূচী স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কি কি করা দরকার তা ঠিক করেছি। আমাদের সবাইকে ঘোষিত ১১ দফা দাবির বাস্তবায়নে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে হবে। এমনভাবে আন্দোলন গড়ে তোলতে হবে যেন বাংলার মাটিতে স্বাধীনতা বিরোধীদের ঠাঁই হবে না।
প্রত্যেক বিভাগ-জেলা-উপজেলায় আন্দোলন গড়ে তুলে স্বাধীনতা বিরোধীদের বীজ নির্মূল করতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধীদেও চাকরি দেয়া যাবে না। তাদেরকে চাকরি দেয়া হলে পাকিস্তানি চেতনা বাস্তবায়ন করবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের যে সুপারিশ করেছিল সরকারি কমিটি, তাতে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। অর্থাৎ ৯ম থেকে ১৩ তম গ্রেড পর্যন্ত চাকরিতে কোনো কোটা থাকবে না।
এসব পদে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন হয়। এরপর থেকে চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে আন্দোলন করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানসহ বেশকয়েকটি সংগঠন।