‎বিভাগীয় শহরে নয়, জাবিতেই হবে ভর্তি পরীক্ষা

০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৬ PM
‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি ফটো

‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ‎মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ সন্ধ্যায় দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।
‎
‎তিনি বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিল সিদ্ধান্ত দিয়েছে, গত বছরের মতো এবারও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি পরীক্ষা হবে। অন্যান্য বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।’
‎
‎গত বছর ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তবে এবার একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
‎
‎যে কারণে বিভাগীয় শহরে নয়
‎‎বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার কারণ হিসেবে সময়, পরীক্ষা পরিচালনার সক্ষমতা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, শিক্ষক ও ভিজিলেশন সংকট এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।
‎
‎তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানে একাডেমিক ও আবাসিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রেও কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর সঙ্গে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
‎
‎তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর থেকে মার্চের শেষ সপ্তাহ বা ঈদের পর পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারের অধিকাংশ দিনই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত। এ অবস্থায় বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নিতে গেলে জাবির ভর্তি পরীক্ষা মার্চের শেষ সপ্তাহ বা এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
‎
‎এতে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শহরে পরীক্ষা নিতে গেলে ফর্মের মূল্য ও যাতায়াত ব্যয় বাড়তে পারে। তবে সবার জন্য ফর্মের মূল্য সমান রাখার নীতির কারণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে জানান তিনি।
‎
‎ইংলিশ মিডিয়ামের প্রশ্নে প্রস্তাব
‎‎ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র বা প্রশ্নের ধরন নিয়ে একাডেমিক কাউন্সিলে একটি প্রস্তাব এসেছে। সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্ন বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনূদিত প্রশ্ন দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
‎
‎তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম কিছুটা আলাদা হওয়ায় তাদের জন্য ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে উপাচার্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।’

আরও পড়ুন: তালিকায় ৪৬৯ শিক্ষার্থীর ৩০ জন ঢাবির, রাবির ২৮ জন— কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কত?
‎
‎এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটি নেবে জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটির পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রতিটি ফ্যাকাল্টির ইউনিটভিত্তিক প্রশ্ন প্রণয়ন কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির কাছ থেকেই আসবে।
‎
‎ভবিষ্যতে এক শিফটে পরীক্ষা নেওয়ার লক্ষ্য
‎‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সক্ষমতা বাড়িয়ে কম শিফটে, এমনকি এক শিফটে পরীক্ষা নেওয়ার দিকে যাওয়ার বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা হয়েছে।
‎
‎সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, ‘হঠাৎ করে শিফটের সংখ্যা কমিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে না। আমাদের শিক্ষকসংখ্যা সীমিত। পাশাপাশি পরীক্ষার সময় প্রয়োজনীয় ভিজিলেশন ব্যবস্থারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ধীরে ধীরে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’
‎
‎তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এখানে কমসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। ফলে শুধু বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফর্ম নেওয়া বা বিভিন্ন জেলা শহরে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হয়। কারণ বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় তাদের বড় অংশকেই শেষ পর্যন্ত ভর্তি করানো সম্ভব হবে না।
‎
‎একাডেমিক কাউন্সিলে তিন বিষয়
‎‎মঙ্গলবারের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় মোট তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা। এর মধ্যে ছিল নিয়মিত প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিষয়, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা এবং গ্র্যাজুয়েট সম্মেলন।
‎
‎গ্র্যাজুয়েট সম্মেলন নিয়ে কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিকভাবে ডিন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতিদের সঙ্গে উপাচার্য আলোচনা করবেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার দিকে নেওয়া হবে।

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যা বলল বিশ্বব্যাংক
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিপক্ষ হয়েও মেসির জয় চান বেনিনের ফুটবলার!
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্ট, জবাব …
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন স্থায়ী সনদপ্রাপ্ত পাঁচ বেসর…
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
রুয়েট কন্সট্রাক্ট কার্নিভালে ২য় স্থান অর্জন করলেন প্রেসিডেন…
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্সের ফল প্রকাশ, পাস ৪১.৯৩ শতাংশ
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬