২৭ কিমি দূরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্র ভোগান্তি শিক্ষার্থীদের

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪ AM , আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৭ AM
বাউফল সরকারি কলেজ

বাউফল সরকারি কলেজ © টিডিসি সম্পাদিত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ‘কেন্দ্র ফি’ খরচের তুলনায় অপ্রতুল জানিয়ে পটুয়াখালীর বাউফল সরকারি কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্র নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করে স্থানীয় ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজ। যার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র প্রত্যাহার করে পটুয়াখালী জেলা শহরের আবদুল করিম মৃধা কলেজে স্থানান্তর করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শাখা। এর ফলে প্রায় ২৭ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ সড়কপথে যাতায়াতের ভোগান্তি, দুর্ঘটনার আশঙ্কা এবং পরীক্ষা প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আগামী ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের পরীক্ষা। এর মাত্র ১২ দিন আগে হঠাৎ কেন্দ্র জেলা শহরে স্থানান্তরের নোটিশ পেয়েছে বাউফল সরকারি কলেজ। এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং সড়কে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে বাউফল সরকারি কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন করে ৩ কিলোমিটার দূরে কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর সেখানে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, কখনো তাদের কোনো সমস্যার কথা আমাদের জানানো হয়নি। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার্থীদের অধিকাংশই বাউফল ও দশমিনা উপজেলার বাসিন্দা। জেলা শহরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে সকাল ৯টার পরীক্ষার জন্য ভোরেই রওনা দিতে হবে। অপরদিকে, বিকাল ৫টায় পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার আগেই নেমে আসবে রাতের অন্ধকার। অতিরিক্ত গরমের মধ্যে দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি মানসিক চাপ বাড়াবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে দুর্ঘটনার শঙ্কাও রয়েছে।

এ বিষয়ে ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনায়েত হোসেন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র ফি বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ৩০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এতে স্নাতকের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা নেওয়ায় সমস্যা হয় না। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় নির্ধারিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয় হয়। সেই অতিরিক্ত ব্যয় প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দিতে হয়। তারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী না, তাদের জন্য আমাদের পক্ষে সবসময় ভর্তুকি দেওয়াতো সম্ভব না। এছাড়া কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও ইউএনও ভর্তুকি বিল প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করেন। তার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই অনলাইনে কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম সীমিত করতে হয় এবং শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।

এ বিষয়ে বাউফল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বশার তালুকদার বলেন, কালাইয়া কলেজ কেন্দ্র প্রত্যাহারের যে আবেদন করেছে, তা আমাদের জানানো হয়নি। পরীক্ষার ১২ দিন আগে জানতে পারি কেন্দ্র পটুয়াখালী সদরে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের সমস্যার বিষয়টি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। তাহলে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হতেন না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে ডিগ্রির পরীক্ষা দিচ্ছেন। তারাও ৩০০ টাকা কেন্দ্র ফি দিয়েছেন। আমরা সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নিতে পারছি। দেশের সব শিক্ষার্থীকে সমানভাবে বিবেচনা করা উচিত কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ছে সেটি মুখ্য হওয়া উচিত নয়।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ এনামুল করিম বলেন, ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি সুপারিশ করেছে। সড়কের ঝুঁকি বা যাতায়াত সমস্যার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। স্নাতক শেষ বর্ষের পরীক্ষার ক্ষেত্রে কেন্দ্র পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তবে পরবর্তীতে সকলের জন্য সুবিধাজনক প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি। 

বাস ভাড়া ও তেলের বাড়ানো হয়নি, সমন্বয় করা হয়েছে : পরিবহনমন্ত…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কী, যা বলছে মা…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি লড়ছেন কত?
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ক্ষুধা, স্ট্রেস নাকি অভ্যাস—খাওয়ার ইচ্ছে আসলে নিয়ন্ত্রণ করে…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
বুটেক্সের ল্যাবে পুরোনো ও অচল মেশিন, ব্যাহত ব্যবহারিক শিক্ষ…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬