বিদ্যুৎ নিয়ে বাংলাদেশকে সুখবর দিল নেপাল

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ PM , আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ PM
 নেপালের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র

নেপালের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র © টিডিসি ফটো

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিকল্প প্রকল্পের মাধ্যমে আবার বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করেছে নেপাল। ভারতের সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে দেশটি।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) নেপালের সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কারণে নেপালের দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানিও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নেপাল বিকল্প জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ রপ্তানির উদ্যোগ নেয়। ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) অনুমোদন দেওয়ার পর নতুন দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার শুরু করা সম্ভব হয়।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানান, বিকল্প জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পাওয়ার পর বাংলাদেশে সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে। এনইএর পুনর্বিন্যাস অনুযায়ী, ‘সোলু খোলা’ ও ‘কাবেলি বি-১’ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ‘লোয়ার মোদি খোলা’ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘায়ু শ্রেষ্ঠ বলেন, ‘বন্যা ও পরিকাঠামোগত ক্ষতি সত্ত্বেও বিকল্প প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা এবং বাংলাদেশে আবার রপ্তানি শুরু করতে পারা নেপালের আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্ষা মৌসুমে নেপালের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে এ রপ্তানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত ‘ত্রিশূলী’ ও ‘চিলমে’ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। একই কারণে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যেও নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

বন্যায় ভোতেকোশি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার পর কাদা ও পলিতে নেপালের একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন প্রায় ঢেকে যায়। এতে দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে ওঠে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানে নেপালে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ অবশ্য এর আগেই নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে মৌসুমভিত্তিক বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়। এ চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে নেপাল।

এদিকে, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের বাইরে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয় বাংলাদেশ ও নেপাল। তবে ভারতের সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে অতিরিক্ত এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আনার অনুমোদন এখনো দেয়নি ভারত সরকার।

আন্দোলনের ৩৪ দিন পর ‘শর্ত দিয়ে’ ক্লাসে ফেরার ঘোষণা চুয়েট শি…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ডিজিটাল ডিটক্স: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নিজের কাছে ফিরে আ…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা, সিএনজি উল্টে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে নেই হামজা ও ফারহান
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
বইয়ের প্রচ্ছদ পেরিয়ে জীবনের খোঁজে, কেমন কাটল বেরোবি শিক্ষার…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ছেলেকে চাকরি দিয়ে দুদকের আসামি হলেন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবে…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬