অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের জানাজা অনুষ্ঠিত © টিডিসি সম্পাদিত
কক্সবাজারের উখিয়ায় রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাফিস তেহামি ও তার পরিবারের ছয় সদস্যের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৮টায় রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী কেন্দ্রীয় মসজিদে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ডাকসুর ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী সাদিক কায়েম।
জানাজায় অংশ নিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান সাদিক কায়েম। জানাজার আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিহতদের সবার জন্য শহীদি মর্যাদা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
নিহত ছয়জন হলেন- অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন- ইসরাত জাহান মালিহা, মিলা, সাবরিন ও শিশু ফাইজান আহমেদ। জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাফিজ তেহামী (ডাকনাম জাইফ), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাবিলা, মালিহা এবং আলভী পরস্পরের কাজিন। বাকিদের মধ্যে ফারিহা কবির নাফিজের বড় বোন এবং ফাইজান ভাগ্নে। তারা রাজধানীর বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।
এর আগে, ঢাকার খিলগাঁও-মুগদা এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম খান নিহতদের মরদেহ গ্রহণ করেন। নিহতদের মধ্যে চারজন তার ভাগনি, একজন ভাগনে ও একজন নাতি। মঙ্গলবার বিকেলে আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের পরিবারের ছয়জন এবং যশোরের আরেক পরিবারের চারজনের মরদেহ বুঝিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। আমরা মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বজনদের মরদেহ পেলাম ১০ দিন পর। আমরা চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক। যাদের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।’
কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে রিসোর্টের দ্বিতীয় তলার কার্নিশ থেকে নাসরিন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করেন।
এর আগে টুপটুপ রিসোর্ট থেকে উদ্ধার হওয়া ১০ পর্যটকের মরদেহ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।