বললেন এমপি ইকরামুল বারী টিপু

‘পরপর কয়েকবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে একজনও পাস করেনি’

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০০ PM , আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ PM
সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু

সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পরপর কয়েকবার ইংরেজিতে একজনও পাস করেনি বলে মন্তব্য করেছেন নওগাঁ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫, ডাবল জিপিএ-৫ ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েও ইংরেজিতে পাস করতে পারছে না।’ বিষয়টিকে জাতির জন্য দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের মৌলিক বিষয়গুলোতে দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য ঘেঁটে এই বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

‘ইসলাম শিক্ষা বিস্তারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাবনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অবদান এবং নৈতিক শিক্ষায় ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে এ আয়োজন করে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষ ঐক্যফ্রন্ট।

সভায় বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘শুধু মাদ্রাসা নয়, সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই আমাদের শিক্ষার্থীদের মৌলিক বিষয়গুলোতে (বেসিক জায়াগায়) অনেক দুর্বলতা রয়েছে। ইংরেজির অবস্থা নিয়ে আপনাদের কথা বলা হলো, কিন্তু আমরা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলের দিকে তাকাই, তাহলে বিগত কিছুদিনে এমন ঘটনাও দেখেছি যে, পরপর কয়েকবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজিতে একজনও পাস করেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় যারা ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসে, তারা তো জিপিএ-৫, ডাবল-৫ ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে আসে। তারপরও তারা ইংরেজি বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করতে পারে না। এটি আমাদের জাতির জন্য দুঃখজনক। সে কারণেই এসব বিষয়ের প্রতি আমাদের একটু বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যদিও আপনারা বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক সবই পড়ান, পরিচালক মহোদয়ও বললেন, ইংরেজি বিষয়ে অনেক শিক্ষকও ভয় পান, শিক্ষার্থীরাও অনেকে ভয় পায়। তবে এ কথা শুধু আপনাদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বলছি না। আমি যখন আমার এলাকায় থাকি, তখন প্রায়ই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হঠাৎ হঠাৎ ঢুকে পড়ি। আশপাশে কোনো অনুষ্ঠানে গেলে, অনুষ্ঠান শেষে হোক বা আগে, কাছাকাছি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলে সেখানে ঢুকে পড়ি। সেটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল কিংবা কলেজ, যেকোনো প্রতিষ্ঠানই হতে পারে। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ঢুকি, আবার কখনো তাদের এক জায়গায় জড়ো করে দুই-চারটি সাধারণ প্রশ্ন করি। সেখানেও অনেক সমস্যা দেখি।’

ইকরামুল বারী টিপু বলেন, যদি আমরা চাই, তাহলে একটি চারাগাছ রোপণ করার পর সেটিকে যেভাবে চাই, সেভাবে এদিক-ওদিক নিয়ে যেতে পারি। কিন্তু গাছটি যখন বড় হয়ে পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষে পরিণত হয়, তখন তাকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করা যায় না। যেখানে-সেখানে তুলে অন্য জায়গায় লাগিয়ে দেওয়াও যায় না। সে কারণেই মানবজীবনের প্রাথমিক স্তর, অর্থাৎ শৈশব ও শিশুকালে যদি আমরা একজন মানুষকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি, তাহলেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত মানুষটি গড়ে তুলতে পারব। এতক্ষণ আমরা যে ধরনের মানুষের কথা বললাম, সেই ধরনের মানুষ পেতে হলে শৈশব থেকেই নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, শিশুদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার জায়গা হচ্ছে নৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ ইবতেদায়ি মাদ্রাসা বলেন, ফুরকানিয়া মাদ্রাসা বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মাথায় আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের কিছু কথা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। কেন সত্য কথা বলতে হবে, কেন মিথ্যা বলা যাবে না, কেন অন্যায় করা যাবে না, কেন কাউকে মারধর করা যাবে না, কেন নেশাগ্রস্ত হওয়া যাবে না, এসব কথা শেখার উপযুক্ত সময় হচ্ছে শিশুকাল। পারিবারিক অনুশাসন, বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা, এসব বিষয় যদি আমরা কাউকে শেখাতে চাই, তাহলে শিশুকাল থেকেই শেখাতে হবে। এ সময়ে শেখাতে পারলে তারা এসব বিষয় ধারণ করতে পারবে এবং সারা জীবন লালন করতে পারবে।

তবে আমি যদি বিষয়টি একটু উল্টোভাবে বলি, তাহলে প্রশ্ন আসে, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কি আমরা শুধু কোরআন-হাদিসের শিক্ষা দিয়ে আমাদের শিশুদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলব? ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের কি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত করতে চাইব না, যাতে তারা তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের জীবন গড়তে পারে এবং দেশের জন্য কিছু করতে পারে?

সেটি করতে হলে ধর্মীয় অনুভূতি ও ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞানসহ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও এআইয়ের মতো বিষয়গুলোও আমাদের শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে শেখাতে হবে। অর্থাৎ আপনাদের মাদ্রাসা বা এ ধরনের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব বিষয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

১৮তম বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯ সহকারী জজকে ইবিতে সংবর্ধনা
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
পর্যটকদের জন্য ফের চালু হচ্ছে সেন্টমার্টিন
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
রাতে মাঠে নামছে বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদ, মোবাইলে খেলা দেখব…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
অফিসার নিয়োগ দেবে আকিজ বেকারস, আবেদন ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রাথমিকের বইয়ে আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিম, যেভাবে তুলে ধরা হয়েছ…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬