শিক্ষার্থীদের জন্য ১৪টি লিফট, শিক্ষকের জন্য ১২টি © টিডিসি সম্পাদিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ৬ অনুষদের প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাসের ভবনগুলোতে উঠানামার জন্য লিফট রয়েছে মাত্র ১৪টি। বিপরীতে, ১ হাজার ৩৯৫ শিক্ষকের জন্য রয়েছে ১২টি লিফট। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীর সংখ্যা শিক্ষকদের তুলনায় প্রায় ১৯ গুণ হলেও লিফটের সংখ্যায় ব্যবধান মাত্র দুটি। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি লিফট নিয়মিত বিকল হওয়ায় ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে নিরাপত্তাঝুঁকিও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কখনো মাঝপথে লিফট বন্ধ হয়ে আটকে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা, কখনো আলো ও ফ্যান বন্ধ হয়ে তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক। এমনকি লিফট দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ও স্মারকলিপি দিয়েও স্থায়ী সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে, নতুন লিফট স্থাপনে বাজেটসংকটের কথা বলছে প্রশাসন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার জানিয়েছেন, লিফটের সংখ্যা ও বাজেট সংক্রান্ত নীতিমালা সম্পর্কে তার কোনো তথ্য নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদ ও একাডেমিক ভবনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৬ হাজার ৭২৭ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ১৪টি লিফট। অন্যদিকে, ১ হাজার ৩৯৫ শিক্ষকের জন্য রয়েছে ১২টি। মোট ২৬টি লিফটের প্রায় ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীদের এবং ৪৬ শতাংশ শিক্ষকদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। ব্যবহারকারীর সংখ্যার সঙ্গে লিফটের এই বণ্টনের অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, লিফটের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত বিকল হওয়ায় তাদের ওঠানামা অনিরাপদ হয়ে উঠছে।
‘‘তুমি যদি কথা বলতে চাও, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলো। হি ইজ দ্য রাইট পার্সন-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ঢাবির ট্রেজারার
অনুষদভিত্তিক তথ্য
কলা ভবনে কলা অনুষদের ১৭টি বিভাগের ৭ হাজার ৫৭৫ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে দুটি লিফট। একই অনুষদের ৩৪২ শিক্ষকের জন্যও রয়েছে দুটি। সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে ওই অনুষদের ১৬টি বিভাগের প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে দুটি লিফট। বিপরীতে, ৩৫১ শিক্ষকের জন্যও বরাদ্দ দুটি। মোকাররম ভবন বা পদার্থবিজ্ঞান ভবনে ৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে দুটি লিফট, আর দুই শতাধিক শিক্ষকের জন্য তিনটি।
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভবনে নয়টি বিভাগের প্রায় ৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে চারটি লিফট। সেখানে ২৪০ শিক্ষকের জন্য বরাদ্দ দুটি। গণিত ভবনের ৬৫২ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে দুটি লিফট, আর ৩৩ শিক্ষকের জন্য একটি। এ ছাড়া আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের অধীন ১০টি বিভাগের প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে দুটি লিফট। একই সঙ্গে ২২৯ শিক্ষকের জন্যও রয়েছে দুটি।

ভবনভিত্তিক হিসাবে কোথাও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য লিফটের সংখ্যা সমান, কোথাও শিক্ষকদের জন্য বেশি, আবার কোথাও শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি। তবে সামগ্রিক চিত্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা শিক্ষকদের তুলনায় অনেক বেশি হলেও লিফটের সংখ্যায় ব্যবধান সামান্য। এর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত লিফটের নিয়মিত বিকল হওয়ার ঘটনা যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ইনস্টিটিউটের ভবন রয়েছে। তবে সেগুলো ২-৩ তলা হওয়াতে সেখানে লিফট খুবই কম ব্যবহৃত হয়। ফলে এসব ভবনের হিসেব এখানে আনা হয়নি।
লিফটে উঠলেই আতঙ্ক
বিশেষ করে কলা ভবনের লিফট নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁদের ভাষ্য, চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ লিফট বন্ধ হয়ে যায়, কখনো ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে যায়, আবার কখনো ভেতরের আলো ও ফ্যান বন্ধ হয়ে পড়ে। ক্লাসের সময় তাড়াহুড়ো করে লিফটে উঠেও নিশ্চিন্তে গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা থাকে না। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর কাছে লিফটে ওঠা এখন সময় বাঁচানোর বদলে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত লিফটে ভিড় থাকায় অনেক সময় তাঁরা শিক্ষকদের লিফট ব্যবহার করেন। কিন্তু সেখানেও কয়েকজন শিক্ষক তাঁদের বাধা দেন।
‘‘ডাকসু নির্বাচনের পর থেকেই আমরা লিফট দুটি সংস্কার বা নতুন লিফট স্থাপনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেছি। সর্বশেষ ইসি সভায় উপাচার্য কলা ভবনের লিফটের সংস্কার বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজনেস অনুষদের লিফটের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব ডাকসুকে দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, আমরা নতুন লিফটের জন্য অর্থের সংস্থান করি। কিন্তু নতুন ডিন দায়িত্ব নেওয়ার পর জানান, তিনি লিফটটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন, তাই নতুন লিফটের প্রয়োজন নেই-মাজহারুল ইসলাম, ডাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক সম্পাদক
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় শিক্ষার্থীদের লিফটে ভিড় থাকায় আমরা শিক্ষকদের লিফটে উঠি। সেখানেও কয়েকজন শিক্ষক বিরোধিতা করেন। তাঁরা প্রশ্ন করেন, আমরা কেন শিক্ষকদের লিফটে উঠেছি। সবাই এমন আচরণ করেন না, তবে কিছু শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। কলা ভবনের চারটি লিফটের মধ্যে দুটি শিক্ষকদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।’
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির রহমান বলেন, এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুটি লিফট যথেষ্ট নয়। তার ওপর লিফটগুলো পুরোনো হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘কলা ভবনের লিফটে আটকে যাওয়া ও মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। লিফটে ওঠার সময়ও আতঙ্ক কাজ করে। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। প্রশাসন যেন দেখেও দেখছে না। শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে তাদের সামান্যতম চিন্তা থাকলেও এত দিনে সমস্যার সমাধান হতো। প্রশাসনের অবহেলার কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারবে না।’

আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী মুবিনুল হক বলেন, কলা ভবনে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য দুটি লিফট থাকলেও সেগুলোর একটি প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে। প্রক্টর অফিসের পাশের লিফটটি মাসে সাত থেকে আট দিন অচল থাকে। অন্য লিফটটিতেও মাসে অন্তত দুই থেকে তিনবার আটকে পড়ার ঘটনা ঘটে।
গত ১২ সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘দুপুর দুইটার দিকে ক্লাসে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে লিফটে উঠেছিলাম। হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে লিফটটি বন্ধ হয়ে যায়। আমরা ছয়জন প্রায় সাত থেকে আট মিনিট ভেতরে আটকে ছিলাম।’
মুবিনুলের অভিযোগ, সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ করেছেন, স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। লিফটে আটকে পড়ে শিক্ষার্থীর জ্ঞান হারানোর ঘটনা এবং দুর্ঘটনায় প্রাণহানির নজির থাকার পরও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষকদের লিফট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আগে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা সহনশীল হলেও মূল সমস্যার সমাধান হয়নি।
লিফট দুর্ঘটনায় প্রাণহানি, বারবার বিকল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লিফটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পেছনে রয়েছে একাধিক দুর্ঘটনা। ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র ভবনে লিফটের ফাঁকা শ্যাফট দিয়ে নিচে পড়ে যান চারুকলা অনুষদের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই দিন দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল কলা ভবনের একটি লিফটে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ২০ জন শিক্ষার্থী একসঙ্গে আটকে পড়েন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বাতাসহীন ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আটকে থাকার একপর্যায়ে সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জ্ঞান হারান।
একই বছরের ৩০ অক্টোবর কলা ভবনের পূর্ব অংশের সেই লিফট মেরামতের মাত্র ছয় মাসের মাথায় আবারও মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় লাইট ও ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ভেতরে আটকে পড়েন। ঘটনাটি পুরো ভবনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
পরপর এসব ঘটনায় লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত কারিগরি পরীক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে একই লিফটে বারবার সমস্যা দেখা দেওয়ার পরও কেন স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, শুধু সাময়িক মেরামত নয়, লিফটের সক্ষমতা ও নিরাপত্তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

লিফট সংক্রান্ত তথ্য জানেন না ট্রেজারার
বিশ্ববিদ্যালয়ের লিফটের সংখ্যা, ব্যবহার, বাজেট ও এ-সংক্রান্ত নীতিমালা বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে তার কোনো তথ্য নেই। সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
ট্রেজারার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি জানি না। তথ্য তো বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে। আমার কোনো ধারণা নেই, কয়টা আছে, কী আছে এবং কী নীতিমালা রয়েছে। আই হ্যাভ নো আইডিয়া অ্যাবাউট ইট (এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই)। তুমি যদি কথা বলতে চাও, চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলো। হি ইজ দ্য রাইট পার্সন (তিনিই এ বিষয়ে কথা বলার উপযুক্ত ব্যক্তি)। কয়টা আছে, কী আছে এবং কোথায় কী আছে, এসব প্রশাসনিক নীতিমালা তিনিই জানেন। এ বিষয়ে আমার কোনো রকম তথ্য জানা নেই।’
অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী ও প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল প্রাং রতন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সমাধান চান শিক্ষার্থীরা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন লিফট স্থাপনে বাজেটসংকটের কথা বলা হলেও শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিনের সমস্যা ও একাধিক দুর্ঘটনার পরও কেন কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। একটি লিফট নিয়মিত বিকল হলে বিকল্প ব্যবস্থা, জরুরি উদ্ধারপ্রক্রিয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের জবাবদিহি থাকার কথা। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
শিক্ষার্থীরা জানান,আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণের সুযোগ চাই না; আমরা নিরাপদে এক তলা থেকে অন্য তলা উঠানামার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও চাই।লিফটে ওঠার আগে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, মাঝপথে আটকে পড়ার ভয় কিংবা শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত লিফট ব্যবহারে বাধার অভিযোগ সব মিলিয়ে সমস্যাটি এখন শুধু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় আটকে নেই বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও, এর সঙ্গে নিরাপত্তা, সমতা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন জড়িয়ে আছে বলে জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও বারবার অভিযোগের পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিফটব্যবস্থা নিরাপদ করতে আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে?এ প্রশ্নের উত্তর আমরা এখনো পায়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন লিফট স্থাপন, বিদ্যমান লিফটের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা জোরদার এবং লিফট ব্যবহারে অযৌক্তিক বাধা দূর করার কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
যা বলছেন ছাত্রপ্রতিনিধিরা
এ বিষয়ে ডাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন ও বিজনেস অনুষদের লিফট নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসত। কলা ভবনের লিফট দিনে দুই-একবার বা তারও বেশি আটকে যেত। এতে শিক্ষার্থীদের ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, ফলে অনেকে পরীক্ষা ও ক্লাসে অংশ নিতে পারতেন না। অন্যদিকে, বিজনেস অনুষদের লিফটটি প্রায় দেড় থেকে দুই বছর বন্ধ ছিল।
তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর থেকেই আমরা লিফট দুটি সংস্কার বা নতুন লিফট স্থাপনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেছি। সর্বশেষ ইসি সভায় উপাচার্য কলা ভবনের লিফটের সংস্কার বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজনেস অনুষদের লিফটের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব ডাকসুকে দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, আমরা নতুন লিফটের জন্য অর্থের সংস্থান করি। কিন্তু নতুন ডিন দায়িত্ব নেওয়ার পর জানান, তিনি লিফটটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন, তাই নতুন লিফটের প্রয়োজন নেই। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের সঙ্গে কথা বলে আমরা জেনেছিলাম, পুরোনো লিফটটি ব্যবহারের উপযোগী নয়, নতুন লিফট স্থাপন করা প্রয়োজন। পরে সংস্কার করে চালু করার পরদিনই লিফটটি আবার বন্ধ হয়ে যায়। আমার জানামতে, এটি এখনো বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত লিফটটি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কলা ভবনের লিফটটির বিষয়ে উপ-উপাচার্য নিজেই দায়িত্ব নিয়েছিলেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটির অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। লিফটটি বড় হওয়ায় নতুন একটি লিফট স্থাপনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে, যা ডাকসুর পক্ষে স্পন্সরের মাধ্যমে সংগ্রহ করা কঠিন। বিজনেস অনুষদের ডিন জানিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে তিনি নিজের স্পন্সরের মাধ্যমে নতুন লিফটের ব্যবস্থা করবেন। তবে ডাকসুর অর্থের সংস্থান করা সত্ত্বেও আমাদের লিফটটি নেওয়া হয়নি, আবার নতুন লিফটও স্থাপন করা হয়নি। ফলে দুটি লিফটের সমস্যাই রয়ে গেছে।
‘‘অন্য একাডেমিক ভবনের লিফট নিয়ে কলা ভবন ও বিজনেস অনুষদের মতো গুরুতর অভিযোগ আমাদের নজরে আসেনি। বিজনেস অনুষদ কর্তৃপক্ষ এখনো নতুন লিফট স্থাপন করতে চাইলে ডাকসু অর্থের ব্যবস্থা করতে পারবে। তবে লিফট স্থাপন ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আওতাধীন হওয়ায় প্রশাসনের সহযোগিতা ও কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”