ডাকসু নেতা মুসাদ্দিকের প্রচেষ্টা, চুরি হওয়া মুঠোফোন ফিরে পেলেন ঢাবির ৩ শিক্ষার্থী © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে চুরি হয়ে যাওয়া মুঠোফোন ফিরে পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৩ জন শিক্ষার্থী। দীর্ঘ সময় পর হারানো ফোন ফিরে পেয়ে ডাকসুর এই নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ওই শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, গত ডিসেম্বর, চলতি মাসের জুলাই ও আগস্টে এই শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত মুঠোফোনগুলো চুরি হয়ে যায়। হারানোর পরে বিষয়টি ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে জানালে তিনি ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রকৃত মালিকানা যাচাই-বাছাই শেষে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১টায় মুঠোফোন তিনটি শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়।
ফোন ফিরে পাওয়া শিক্ষার্থীলা হলেন-সাইদুল ইসলাম ইফাস (২০২৪-২৫ সেশন, মার্কেটিং বিভাগ), মো. রাকিব হোসেন (২০২১-২২ সেশন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগ) এবং জয়নাল আবেদীন (২০২০-২১ সেশন, ইতিহাস বিভাগ)।
ডাকসু ভবনে আয়োজিত হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব জায়গা থেকে চেষ্টা করেছে আমাদেরকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তারা সব জায়গায় আমাদেরকে বাধা দিয়েছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের কাজ করার জন্য এবং শিক্ষার্থীরাই বলছে যে আমরা যে কমিটমেন্ট দিয়েছিলাম তার থেকেও শতগুণ বেশি কাজ আমরা করেছি।
তিনি বলেন, আজকে তিনটি ফোন শিক্ষার্থীরা ফিরে পেলেন ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির মাধ্যমে এবং ডাকসু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকের সমন্বয়ে। শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে আমি যে আনন্দ লক্ষ্য করতেছি, উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করতেছি, এটা আমাকে অত্যন্ত আনন্দিত করতেছে। কিন্তু আমাদের কিছু ভাই শুধু সমালোচনা করতে চান। বলতে চান যে এটা কি ডাকসুর কাজ? ডাকসুর কাজ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করা। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য যা দরকার, আমরা তাই করার চেষ্টা করেছি।
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, একজন শিক্ষার্থী অনেক কষ্ট করে টিউশনের টাকা জমিয়ে একটি মোবাইল ফোন কেনেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক সময় সেই ফোন ছিনতাইয়ের শিকার হয়, চুরি হয়ে যায় কিংবা অসাবধানতাবশত হারিয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই সেই জিডির কার্যকর অগ্রগতি হয় না। তাই আমরা ডাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি সমন্বয় ও যোগাযোগের একটি কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে তাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা যায়।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা বিষয়টি আমাদের জানালে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ শুরু করি। ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে আজ আমরা তাদের হারানো ফোনগুলো উদ্ধার করে তাদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি। ১৮ এপিবিএন রাঙ্গামাটি সাইবার ক্রাইম এর অধিনায়ক রেজাউল করিম ভাইয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন তিনটি উদ্ধার করে দেওয়া হলো। ১৮ এপিবিএন রাঙ্গামাটি সাইবার ক্রাইম পুলিশকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই।
‘‘বিশেষ করে রেজাউল করিম মল্লিক ভাইকে, তিনি সবসময় বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করে আসছেন। তার প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, তিনজন শিক্ষার্থীর অনেক কষ্টে জমানো টাকায় কেনা ফোন তিনটি দীর্ঘ সময় পর হলেও উদ্ধার করে তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। ফোনটি ফিরে পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মুখে যে হাসি দেখেছি, সেটিই আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’’
এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রিজওয়ান মানসুরীর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন আহমেদ শাকিল সহ শিক্ষার্থীবৃন্দ।