চীনে ইয়াং সিনোলজিস্টস ভিজিটিং প্রোগ্রামে ঢাবির কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের শিক্ষক আকিব ইরফান © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের শিক্ষক আকিব ইরফান চীনে অনুষ্ঠিত ‘২০২৬ ভিজিটিং প্রোগ্রাম ফর ইয়াং সিনোলজিস্টস (শানতং সেশন)’-এ অংশগ্রহণ করেছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর চীনের শানতং প্রদেশে তিন সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
চীনের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চায়না সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল কালচারাল এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড ট্যুরিজম প্রমোশন, শানতং প্রাদেশিক সংস্কৃতি ও পর্যটন বিভাগ এবং ছুফু নরমাল ইউনিভার্সিটি। দক্ষিণ, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার ২০টি দেশের মোট ২১ জন তরুণ চীন-বিষয়ক গবেষক এতে অংশ নেন।
এ বছরের কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল ‘কনফুসীয় চিন্তাধারার আধুনিক রূপান্তর ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ’। সমকালীন চীনে কনফুসীয় চিন্তাধারার বিকাশ, গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে এর সম্পর্ক এবং বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সভ্যতাগুলোর মধ্যে সংলাপের ভূমিকা ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়।
তিন সপ্তাহের কর্মসূচিতে একাডেমিক বক্তৃতা, দলভিত্তিক গবেষণা, গবেষণাপত্র রচনার দিকনির্দেশনা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল। ছুফু নরমাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সং লিলিন, ঝেং ঝিওয়েন, ঝৌ হাইশেং, শিয়া ইয়ুন, সু সিন, ছিন হোংউ, ইয়েন বিংকাং এবং ঝাং চিয়েনহুয়াসহ বিভিন্ন গবেষক কনফুসীয় দর্শন, ধ্রুপদি চীনা চিন্তাধারা, আন্তঃভাষিক অনুবাদ, আন্তর্জাতিক চীনা ভাষা শিক্ষা, জনকূটনীতি এবং গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ নিয়ে বক্তৃতা দেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা কনফুসিয়াসের জন্মভূমি ছুফুর কনফুসিয়াস মন্দির, কনফুসিয়াস ম্যানশন ও কনফুসিয়াস সমাধিক্ষেত্রসহ ঝৌছেং, নিশান, রিঝাও ও ছিংতাওয়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা পরিদর্শন করেন। তাঁরা ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা, ক্যালিগ্রাফি, তীরন্দাজি ও মার্শাল আর্টসসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও অংশ নেন। পাশাপাশি আধুনিক স্বয়ংক্রিয় বন্দর, মোটরযান রপ্তানি প্রতিষ্ঠান এবং গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনের মাধ্যমে শানতুংয়ের সমসাময়িক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করেন।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক কনফুসিয়াস সংস্কৃতি উৎসব এবং কনফুসিয়াসের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মহা আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।
আকিব ইরফান ‘আন্তর্জাতিক চীনা ভাষা শিক্ষা’ গবেষণা দলের সদস্য হিসেবে অধ্যাপক শিয়া ইয়ুন ও অধ্যাপক ঝাং চিনচুয়ানের তত্ত্বাবধানে নেপাল, পাকিস্তান, তিউনিসিয়াসসহ বিভিন্ন দেশের তরুণ গবেষকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চীনা ভাষা শিক্ষা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণায় অংশ নেন।
নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আকিব ইরফান বলেন, এ কর্মসূচি তাকে গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ এবং সভ্যতাগুলোর মধ্যে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সংলাপের ধারণাকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ দিয়েছে।
বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি কনফুসীয় নৈতিক চিন্তা এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ইসলামী নৈতিক ঐতিহ্যের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও গবেষণা করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে এ কর্মসূচি থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, শিক্ষা ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও এগিয়ে নিতে কাজে লাগবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।