মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের ‘এমজিআই-এমএএ বৃত্তি ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী © টিডিসি ছবি
দেশের বড় বড় কোম্পানি ও ইন্ডাস্ট্রিগুলো একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে লিংকেজের ওপর তেমন গুরুত্ব দেয় না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের ‘এমজিআই-এমএএ বৃত্তি ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (এমএএ)-এর যৌথ উদ্যোগে এ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমার সামনে যারা রয়েছে, তারাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। আমাদের মেধা কোনো অবস্থাতেই বিশ্বের অন্য কোনো নাগরিকের চেয়ে কম নয়। আল্লাহ আমাদের কাউকে মেধা দিয়ে ঠকাননি। উন্নত বিশ্বের মানুষের যে মেধা রয়েছে, আমাদেরও তা আছে। চীন যেমন নিজেদের চেষ্টায় উন্নত হয়েছে, আমরাও আমাদের দেশকে সেভাবেই উন্নত করব।’
দেশে একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে দূরত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে বড় বড় কোম্পানি বা ইন্ডাস্ট্রিগুলো একাডেমিয়া অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির লিংকেজের ওপর তেমন গুরুত্ব দেয় না।’
এ প্রসঙ্গে চীনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সেখানে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরেই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গড়ে উঠেছে। ইন্ডাস্ট্রির ইঞ্জিনিয়াররা শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন, আবার শিক্ষার্থীরা সেখানে কাজ শিখছে। আমাদের দেশেও এমন লিংকেজ প্রয়োজন।’
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি বা শিক্ষাবৃত্তির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী অন্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য শুধু শ্রেণিকক্ষ, গবেষণা বা ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর অ্যালামনাই এবং সমাজ যখন শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের পথে একসঙ্গে দাঁড়ায়, তখনই তা পূর্ণতা পায়। শিক্ষার্থীদের জন্য ১ কোটি টাকার স্কলারশিপ ফান্ড গঠন করায় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এটি শুধু একটি আর্থিক সহায়তা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের জন্য আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য অ্যালামনাই ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি একটি সেন্ট্রাল ফান্ড গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সরকারের টাকায় চলতে পারে না। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা গবেষণাসহ অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছি। আমি মেঘনা গ্রুপসহ দেশের সফল ব্যবসায়ী ও অ্যালামনাইদের আহ্বান জানাই—আপনারা শুধু একটি বিভাগের জন্য নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সেন্ট্রাল ফান্ড গঠনে এগিয়ে আসুন।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. আব্দুস সালাম, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ আলমোজদদ্দেদী আলফেছানী, মেঘনা গ্রুপের পরিচালক ব্যারিস্টার তাসনীম মোস্তফা, মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সিরাজুল হকসহ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।