বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর জন্য শিক্ষা ক্যাডারদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, ডিসিইউ ভিসির সঙ্গে একমত অধ্যাপক মামুন

২২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৬ AM
অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন © সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও গবেষণার সক্ষমতা নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) উপাচার্যের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন। শনিবার (২২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের যে চিন্তা-চেতনা ও গবেষণা (রিসার্চ) থাকা প্রয়োজন, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের মধ্যে তার অভাব রয়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভিসি সঠিক এবং এই বাংলাদেশের পার্স্পেক্টিভে সাহসী বক্তব্যের জন্য অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের কোন ভিসির এমন বক্তব্য রাখতে পাড়ার মত ভিসি নাই বললেই চলে। 

প্রথমত উনি বুঝতে পেরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যোগ্যতা কেমন হওয়া উচিত। উনি বুঝতে পেরেছেন কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া মানে কলেজ বদলে বিশ্ববিদ্যালয় নাম, আর প্রশাসনিক শীর্ষ পদকে অধ্যক্ষ বদলে ভিসি রাখলেই ওটা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠে শিক্ষকদের মানের দ্বারা। এমনকি ইংল্যান্ডে অনেক কলেজ আছে যেইগুলো ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি রেঙ্কিং-এ ১০ এর মধ্যে থাকে। ফ্রান্স ও ইতালিতে অনেক স্কুল আছে যেইগুলো ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি রেঙ্কিং এর শীর্ষে থাকে।
 
এই অধ্যাপক লেখেন, যেই কথাটি বলেছেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কখনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদবীতে কখনো শিক্ষা ক্যাডার, শিক্ষা কর্মকর্তা ইত্যাদি থাকতে পারে না। এইসব থাকলে মনস্তাত্বিক সমস্যা হলো তারা চিন্তা ও মানসিকতায় এক জায়গায় বাধা থাকে। তাদেরকে মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কি করা যাবে, কি বলা যাবে ইত্যাদি মন্ত্রণালয় দ্বারা ফিল্টারড হয়। 

ঢাবি অধ্যাপক বলেন, এমনকি একজন পিএইচডি করলেও তার নামের আগে ড. লাগাতে হলে মন্ত্রণালয়ের পারমিশন লাগে। তারা কিভাবে মুক্ত চিন্তা করবে? আর এই মুক্ত চিন্তা করতে পাড়া গবেষণা করতে পাড়ার প্রথম শর্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মানেই একজন শিক্ষকের শান্তার পরিধি হয়ে যায় আকাশের মত উম্মুক্ত আর মহাসাগরের মত গভীর। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক একাডেমিক ডিগ্রী র উপরেও শর্ত আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকের পিএইচডি থাকা বাঞ্চনীয় ও কাঙ্খিত। 

তিনি আরও বলেন, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের মধ্যে যাদের মানসম্মত পিএইচডি আছে তাদেরকে একটা ফিল্টারিং পদ্ধতিতে যোগ্যতা সাপেক্ষে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া যায়। এতে কোন সমস্যা দেখি না। কিন্তু একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে গেলে তার সাথে আর মন্ত্রণালয়ের কোন অফিসিয়াল সংযুক্তি থাকতে পারে না। সে আর কর্মকর্তা নয়।

এর আগে, গতকাল ২১ আগস্ট হিট প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী উপাচার্যদের সংলাপের প্রথম দিনে উচ্চশিক্ষার নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ডিসিইউ ভিসি অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আজকে যে অবস্থা দেখতে পাচ্ছেন। ‌‌জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সারা বাংলাদেশে পড়াচ্ছেন কারা? বিসিএস এডুকেশনের যে শিক্ষক তারা। একজন শিক্ষক ইন্টারমিডিয়েট পড়াচ্ছেন, ডিগ্রি পড়াচ্ছেন। আবার সেই শিক্ষক অনার্স-মাস্টার্সও পড়াচ্ছেন। একইভাবে এই সাতটা কলেজের মধ্যে বিসিএস এডুকেশন ক্যাডারের শিক্ষকরা রয়েছেন। ফলে ওই শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ানোর জন্য যে চিন্তা-চেতনা, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের থাকা দরকার, রিসার্চ করা দরকার। সেটা তো নেই। সাত কলেজের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের কোন ফ্রেমে আনবো এটা নিয়ে আপনাদের সাথে (সরকার) আমাদের আলোচনা করা দরকার।

বুটেক্সের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২৮ মার্চ, উপস্থিত থাকতে রাষ্ট্রপ…
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আ…
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
বাউফলে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ শোভাযাত্রা
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে গণবিক্ষোভে নামছে এনসিপি
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ১৮
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ডি থ্রি ট্রফির নিলামে প্রথম ধাপ শেষে কোন দলে কোন ক্রিকেটার
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬