দুর্নীতির দায়ে পদত্যাগ করা জাবি ভিসি হচ্ছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক

অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির
অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির  © সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৫৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চালু হতে যাচ্ছে প্রফেসর ইমেরিটাস ও সুপারনিউমারারি প্রফেসর। আগামী ১০ তারিখ অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় এ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন বিষয় আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরকে এ পদে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিন্ডিকেট সদস্য জানান, ১০ তারিখ অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেটের আলোচ্যসূচিতে নীতিমালা অনুমোদনের বিষয়টি রয়েছে। তবে এর আগে কোনো পর্ষদে এ নিয়ে কোনো আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে বলে শুনি নি। বিষয়টি সুন্দর হলেও এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করি।

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগের জন্য নীতিমালায় একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন নেওয়া হলেও এক্ষেত্রে জাবির একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন নেওয়া হয় নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ অভিযোগ করছেন, গোপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরকে প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দিতে তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেটে নীতিমালা অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: চরম অব্যবস্থাপনায় পবিপ্রবির আবাসিক হলে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রফেসর ইমেরিটাস চালু করা শিক্ষার্থী-শিক্ষক সবার দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। কিন্তু একজন বিতর্কিত ব্যক্তি যিনি তার অপকর্মের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করেছেন তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে নীতিমালা প্রণয়ন করা, একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন না নিয়ে করা হলে এ উদ্যোগের পেছনের সদিচ্ছা বিতর্কের মুখে পড়বে।

প্রফেসর ইমেরিটাসের কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সাবেক সম্পাদক অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, গতবছর আমাদের সাধারণ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ইমেরিটাস পদ ও সুপারনিউমারারি প্রফেসর পদ সৃষ্টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয় এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে নীতিমালা তৈরি করা হবে। সেই নীতিমালার আলোকে যারা গ্রহণযোগ্য হবে তাদেরই সুপারিশ করা হবে। তবে আমি যেহেতু শিক্ষক সমিতির বর্তমান কমিটিতে নাই, সেহেতু বর্তমান কমিটি এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানে কি না তা বলতে পারছি না। এছাড়া এ বিষয়ে কমিটি গঠিত হলে একাডেমিক কাউন্সিলেও কমিটি করার কথা। আমি গত একাডেমিক কাউন্সিলে ছিলাম। আমার জানামতে এ বিষয়ে কোনো কমিটি গঠিত হয় নি।

প্রশাসনকে চাপ প্রয়োগ করে ইমেরিটাস প্রফেসর হওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘বাজে কথা বলো না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ও উপাচার্যকে একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোনে পাওয়া যায় নি। 

জানা যায়, অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলে প্রায় তিন বছরেরও বেশি সময় উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ছাত্রলীগের ‘একটি অঞ্চলভিত্তিক’ অংশকে মদদ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া ছাড়াও নানা অভিযোগ ওঠে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তার ‘মদদপুষ্ট’ হিসাবে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতাদের হামলায় সংগঠনটির অন্য অংশের কর্মী ও ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ নিহত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। এরপর ২০১২ সালের ১৭ মে উপাচার্যের পদ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।


সর্বশেষ সংবাদ