বিজ্ঞান

প্লুটোর কাছেই লুকিয়ে ছিল নতুন বামন গ্রহ, ক্যামেরায় ধরা পড়েও নজর এড়িয়েছে বিজ্ঞানীদের

৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ AM , আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ AM
সৌরজগতের দূরের অংশে নতুন মহাজাগতিক বস্তুর দেখা মিলেছে।

সৌরজগতের দূরের অংশে নতুন মহাজাগতিক বস্তুর দেখা মিলেছে। © আনন্দবাজার

সৌরজগতের দূরবর্তী অঞ্চলে নতুন এক সম্ভাব্য বামন গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইডি১৩৮ (ED138) নামের বস্তুটি কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ক্যামেরায় ধরা পড়ছিল। তবে তখন এর বিষয়ে আলাদাভাবে নজর দেননি বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি চিলির ভেরা সি রুবিন পর্যবেক্ষণাগারের টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করে বস্তুটির সন্ধান পান জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিকসের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ম্যাথিউ হোলম্যান নতুন এই বস্তুটি শনাক্ত করেন। প্রথমে নিজের হিসাব কিংবা কম্পিউটার কোডে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল তাঁর। পরে যাচাই করে আবিষ্কারটির বিষয়ে নিশ্চিত হন। প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে, সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ইডি১৩৮-এর প্রায় ২৮১ বছর সময় লাগে। এর কক্ষপথের গড় দূরত্ব প্লুটোর চেয়ে সামান্য বেশি। তবে বস্তুটির সঠিক আকার এখনো জানা যায়নি।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, ইডি১৩৮-এর ব্যাস ৬০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে হতে পারে। আকারের এই অনুমান সঠিক হলে বস্তুটি প্রায় গোলাকার হওয়ার কথা। বামন গ্রহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর আকৃতি প্রায় গোলাকার হওয়া। তবে ইডি১৩৮-কে বামন গ্রহ হিসেবে নিশ্চিত করতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রয়োজন।

সৌরজগতের বামন গ্রহ হিসেবে প্লুটোর নাম সবচেয়ে পরিচিত। একসময় একে সূর্যের নবম গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে ২০০৬ সালে গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্লুটোকে বামন গ্রহের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নতুন সন্ধান পাওয়া ইডি১৩৮-এর অবস্থানও প্লুটোর কাছাকাছি।

বস্তুটির আকার নির্ধারণ নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাধারণত কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ঔজ্জ্বল্য ও দূরত্ব বিশ্লেষণ করে তার আকার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু বরফে ঢাকা ছোট কোনো বস্তু থেকেও বেশি আলো প্রতিফলিত হতে পারে। তাই শুধু ঔজ্জ্বল্যের ভিত্তিতে ইডি১৩৮-এর প্রকৃত ব্যাস নির্ধারণ করা কঠিন।

আগেও ধরা পড়েছিল ক্যামেরায়
ইডি১৩৮-এর সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞানীদের কাছে বিশেষ আগ্রহের। কারণ, বস্তুটি একেবারে নতুন নয়। ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে ডার্ক এনার্জি ক্যামেরায় এর ছবি ধরা পড়েছিল। তবে তখন এর গুরুত্ব আলাদাভাবে বোঝা যায়নি। নেপচুনের বাইরে সৌরজগতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা বেশ কঠিন। সূর্য থেকে অনেক দূরে হওয়ায় সেখানে আলো খুব কম পৌঁছায়। ফলে ওই অঞ্চলের মহাজাগতিক বস্তুগুলোও পৃথিবী থেকে সহজে দেখা যায় না।

ইডি১৩৮-এর কক্ষপথ সৌরজগতের মূল সমতলের তুলনায় প্রায় ২৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি হেলে রয়েছে। এ কারণে প্রচলিত পর্যবেক্ষণে বস্তুটির অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে থাকতে পারে।

কুইপার বেল্টে নতুন বস্তু
নেপচুনের বাইরে বরফে ঢাকা ছোট-বড় অসংখ্য মহাজাগতিক বস্তু নিয়ে গঠিত অঞ্চলটির নাম কুইপার বেল্ট। সেখানে ইতিমধ্যে হাজার হাজার বস্তু শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। ইডি১৩৮ সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। তবে নতুন এই মহাজাগতিক বস্তু সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর পৃষ্ঠের গঠন, বরফের পরিমাণ কিংবা অন্য কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আরও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ইডি১৩৮ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। একই সঙ্গে সৌরজগতের দূরবর্তী অঞ্চলে এখনো অনেক অজানা মহাজাগতিক বস্তু থাকতে পারে, যেগুলোর সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে নতুন প্রযুক্তির সহায়তায়। সূত্র: আনন্দবাজার ডট কম

গ্রিভসকে ফিরিয়ে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের স্বস্তি
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
বাইন্যান্সের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা, চুরি ৬৩০ কোটি…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
‘আম তারেক’ অন্তত হোটেলে নারী নিয়ে যাওয়া-পদ বাণিজ্য-চুমু শফি…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
জাকসুর নির্বাচন কার্যালয় ব্যবহার করবে শিক্ষক সমিতি, সরিয়ে ন…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের ইনানীতে গ্যাসের আগুন: ১৪৪ ধারা জারি, বিদ্যুৎহীন…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬