উচ্চতর গ্রেডে বৈষম্য নিরসনের দাবি, দুই মাসের আলটিমেটাম শিক্ষকদের

২২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৩ PM
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা © সংগৃহীত

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। এ জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ সংশোধন করে মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। এ সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনসহ পরবর্তী কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান ‘উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং’-এর নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা বলেন, একই দেশের একই এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দুই ধরনের নীতিমালা কার্যকর রয়েছে। মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১১.৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষকদের প্রথম উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথম এমপিওভুক্তির সময়কাল বিবেচনা করা হয়। কিন্তু স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১১.৭ অনুচ্ছেদে ভিন্ন শর্ত থাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা একই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তাদের ভাষ্য, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে একই এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় কর্মরত হওয়া সত্ত্বেও শুধু প্রতিষ্ঠানভেদে নীতিমালার পার্থক্যের কারণে শিক্ষকদের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পরও এ বৈষম্যের কারণে অনেক শিক্ষক ন্যায্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএড (ব্যাচেলর অব এডুকেশন) ডিগ্রির কারণে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তিতে বিলম্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষকরা। তারা বলেন, বিএড ডিগ্রি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা, শিক্ষাদান পদ্ধতির উন্নয়ন ও মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে বিএড-পরবর্তী সময়কে ভিত্তি করায় অনেক শিক্ষককে আর্থিক সুবিধা পেতে বিলম্বের মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ডিগ্রি শিক্ষকদের একাংশের কাছে আর্থিক বঞ্চনা ও হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষক নেতারা জানান, বৈষম্য নিরসনের দাবিতে তারা গত ১২ আগস্ট, ৩ সেপ্টেম্বর ও ২৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর কাছেও এ বিষয়ে দাবি তুলে ধরেছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিও নীতিমালার ১১.৭ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালার ১১.৫ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা, এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে অভিজ্ঞতা গণনা করে প্রথম উচ্চতর গ্রেড প্রদান, বিএড ডিগ্রির কারণে আর্থিক বৈষম্য দূর করা এবং সব এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তিতে অভিন্ন ও ন্যায্য নীতিমালা নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ২০২৬ সালের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং আগামী ঈদুল ফিতরে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদানের দাবিও জানান শিক্ষক নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাবেশিকফোর সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দীন, নির্বাহী মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি মো. আতিকুর রহমান তালুকদার, সহসভাপতি মো. শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মো. রবিউল ইসলাম ও মো. তোফায়েল সরকারসহ ‘উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং’-এর মো. সাইদুজ্জামান, মো. মাহমুদুল হাসান মোহাব্বত, মো. রাশেদ, মো. আল মামুন, মো. জসিম উদ্দিন, রিনা খাতুন ও মো. মাসুদসহ অন্যরা।

আগামী ঈদে শতভাগ উৎসব ভাতা দাবি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহনের বাস চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষ…
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
আফগানদের কাছেও সেই পুরোনো সমস্যা, কী বলছেন হৃদয়?
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
ভূমিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থ…
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
বিদেশের মাটিতে ব্যাটারদের ‘ব্যর্থতা’ স্বীকার করলেন হৃদয়
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
উচ্চতর গ্রেডে বৈষম্য নিরসনের দাবি, দুই মাসের আলটিমেটাম শিক্…
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬