৮১ নাগরিকের বিবৃতি মিথ্যাশ্রয়ী: ইউট্যাব

  © সংগৃহীত

গত ৩১ অক্টোবর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় কর্তৃক ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিবাদ’ শিরোনামে প্রকাশিত বস্তুনিষ্ঠ প্রেস ব্রিফিং নোটস এর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে ‘সমাজের ৮১ বিশিষ্ট নাগরিকের’ প্রদত্ত বিবৃতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বালাদেশ (ইউট্যাব)।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) সংগঠনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান এ বিষয়ে এক বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সুরক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক সংস্থা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় নিজ অবস্থান স্পষ্ট করা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় বার্তা প্রদান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ তাদের দায়িত্বের অংশ।

সেই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে পুলিশ বাহিনীর একাংশের পরিকল্পিত নারকীয় ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে ৩১ অক্টোবর একটি প্রেস ব্রিফিং নোটস প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে সুস্পষ্টভাবে ২৮ অক্টোবরে বিরোধীদলের কর্মী, পথচারী ও পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনার উল্লেখ আছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান বিচারপতির বাসভবন আক্রমণের ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী, হেলমেটধারীরা সরকারি দলের সমর্থক বলেই ধারণা।

ইউট্যাবের নেতারা বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকারের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, পুলিশ প্রতিবাদকারীদের ওপর রড, লাঠি, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট দিয়ে আক্রমণ করেছে। পুলিশ সারাদেশে বিরোধীদলের নেতাকর্মী, সমর্থকদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে। নির্বিচারে গ্রেপ্তার করছে, আটক করছে, এমনকি বাড়ির সাধারণ সদস্যদেরও ছাড় দিচ্ছে না।

এমতাবস্থায় জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় তার বিবৃতিতে পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও সহনশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। সরকারকে সর্বোচ্চ ধৈর্য সহকারে মানবাধিকারের পূর্ণ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে।

নেতারা বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে চলমান আন্দোলন দমনে সরকারের বর্বরোচিত নৃশংসতা ও অভূতপূর্ব সহিংস আচরণের কেবল আংশিক বাস্তব চিত্র যখন জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের প্রেস বিবৃতিতে প্রকাশিত হয়েছে, তখন দেশের তথাকথিত ৮১ বিশিষ্টজনের মিথ্যাশ্রয়ী বিপরীত অবস্থান দেশের অগণিত মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে।

এর মাধ্যমে তারা তাদের স্বৈরাচারের স্তাবক দলদাসের নির্লজ্জ চিত্রটি সাধারণ মানুষের সামনে আরেকবার স্পষ্ট করেছেন। শুধু তাই নয়, তাদের এহেন একপেশে বিবৃতি বর্তমান ভোট ডাকাতির অবৈধ সরকারকে অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড করতে আরও উৎসাহ যোগাবে। আমরা শিক্ষক সমাজ এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

ট্যাব নেতারা বলেন, দেশের অগণিত গণতন্ত্র ও মুক্তিকামী মানুষের পক্ষ থেকে ৮১ বিশিষ্ট নাগরিকের তথাকথিত প্রতিবাদকে প্রত্যাখান করছি এবং একইসঙ্গে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের এই অবস্থানকে স্বাগত জানাচ্ছি। বাংলাদেশে ভুলুন্ঠিত মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাদের এই বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান আরো সোচ্চার ও জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছি। সরকারের শত নির্যাতনও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে পারবে না।


সর্বশেষ সংবাদ