রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ডিসকলেজিয়েট ছাত্রের ফর্ম পূরণ, রাজি না হওয়ায় নিজ বিভাগের সভাপতিকে হেনস্তা ছাত্রদল নেতার

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ PM , আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ PM
বাম থেকে উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের নেতা বুলবুল রহমান, রাবি ও ছাত্রদলের লোগো

বাম থেকে উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের নেতা বুলবুল রহমান, রাবি ও ছাত্রদলের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

ডিসকলেজিয়েট শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফর্ম পূরণকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম বুলবুল রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উর্দু বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌকিরের উপস্থিতি ৪৯ শতাংশ হওয়ায় তাকে ডিসকলেজিয়েট করা হয়। ফলে তার পরীক্ষার ফর্ম পূরণ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমান। এ সময় দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর সভাপতি রাজি না হওয়ায় তাকে গালাগাল ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে বুলবুলের বিরুদ্ধে।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, এক পর্যায়ে তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এছাড়া জনসমক্ষে তার হাত ধরে টানাটানি ও আপত্তিকর মন্তব্য করে তাঁকে হেনস্তা করেন ছাত্রদলের ওই নেতা।

এ বিষয়ে অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, সে আমার বিভাগের সাবেক ছাত্র। আমাকে কল দিয়ে দেখা করতে বলে। তখন আমি বাসায় যাওয়ার পথে তার সঙ্গে দেখা করি। সে আমাকে বলে, তৌকির নামে একজন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, যার উপস্থিতির নম্বর না থাকায় ডিসকলেজিয়েট হয়েছে, তাকে ফর্ম পূরণের সুযোগ দিতে। আমি তাকে বলি, এটার নিয়ম নেই। তার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই। এক পর্যায়ে সে আমাকে গালি দিতে শুরু করে এবং আমার হাত ধরে টানাটানি করতে থাকে। আমি বাইকের উপরে ছিলাম। পরে আমি ভিডিও করতে গেলে আমার মোবাইল নিয়েও টানাটানি শুরু করে। আমাকে মোনাফেক, ধর্ষকসহ নানা আজেবাজে কথা বলতে থাকে সে।

তিনি আরও বলেন, তার রাগটা মূলত অন্য জায়গায়। সে এই বিভাগের শিক্ষক হতে চায়। কিন্তু তার অনার্সে সিজিপিএ কম থাকায় সে আবেদন করতে পারেনি। তারপর থেকেই সে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত। এখন পর্যন্ত সে শিক্ষক হবেই—এমন মানসিকতা পোষণ করে।

অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, দিনদুপুরে পাবলিক প্লেসে সবার সামনে এমন আচরণ আমার জন্য খুবই লজ্জাজনক। আমি প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। তাঁরা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমান। তিনি বলেন, আমি আমার ছোট ভাইয়ের হয়ে তার কাছে রিকুয়েস্ট করেছি, যেন তাকে মানবিক দিক বিবেচনা করে পরীক্ষায় বসতে দেন। সে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিল যার কারণে ক্লাস করতে পারেনি। এর বাইরে আমি কিছু করিনি। এটা তো রুমের ভেতরে না সবার সামনে আমি তাকে কেন হেনস্তা করতে যাব? হেনস্তার যে অভিযোগ তিনি করেছেন, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন। উলটো তিনি আমার সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি সিরিয়াসভাবে দেখতে হবে। আমরা স্যারদের সঙ্গে কথা বলে তারপর সিদ্ধান্ত নেব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমাদের কিছু তথ্য এসেছে। এখনও সব তথ্য আমরা পাইনি। বিষয়টি আমরা দেখছি। পরবর্তীকালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৭০ শিক্ষককে নিয়ে আন্তর্জাতিক জলি ফোনিক্স প্রশিক্ষণের আয়োজ…
  • ২৭ অক্টোবর ২০২৬
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে সংবাদ প্রকাশ: ঘরের ভেতর দাফন করা করিমে…
  • ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ নিয়োগ দেবে শি…
  • ২৭ অক্টোবর ২০২৬
জামায়াত এমপি মাসুদ সাঈদীর রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করল প্র…
  • ২৭ অক্টোবর ২০২৬
২০২৭ সালে ভরি প্রতি ৩ লাখ টাকা ছাড়াতে পারে স্বর্ণের দাম 
  • ২৭ অক্টোবর ২০২৬
অফিসার নিয়োগ দেবে ওয়ার্ল্ড ভিশন, আবেদন ১ নভেম্বর পর্যন্ত
  • ২৭ অক্টোবর ২০২৬