বেরোবি শিক্ষক ড. ফেরদৌস রহমান © টিডিসি সম্পাদিত
একদিকে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের মতো স্পর্শকাতর প্রশাসনিক পদের শত ঝক্কি-ঝামেলা, অন্যদিকে বহিরাঙ্গন পরিচালকের গুরুদায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক একটি পদ মানেই যেখানে ফাইলের স্তূপ আর প্রাত্যহিক অন্তহীন ব্যস্ততা, সেখানে গবেষণার আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক অনন্য কীর্তি গড়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষক ড. ফেরদৌস রহমান।
সব ধরনের প্রশাসনিক চাপকে জয় করে, রুটিন কাজের নিখুঁত সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি অর্জন করেছেন ‘গবেষণার অনন্য হ্যাটট্রিক’। হয়েছেন বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষক টানা ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ পর্যন্ত। তিনি তার প্রশাসনিক দায়িত্ব শুরু করেছেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকেই। এর মধ্যে অবশ্যই চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রক্টরের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে মর্যাদাপূর্ণ স্থান লাভ করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সূচকে তার বৈশ্বিক র্যাংক ২৮ হাজার ২৫০ এবং ‘অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স’ সাব ফিল্ডে র্যাংক ৫১৫, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ব্যস্ততার চেয়ার পেরিয়ে ল্যাবের দুনিয়ায়প্রশাসনিক দায়িত্বের শত ব্যস্ততাও দমাতে পারেনি এই বিজ্ঞানীর ভেতরের গবেষক সত্ত্বাকে।
নিজের সফলতার রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, শিক্ষকদের প্রধান ও মূল কাজই হলো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং গবেষণা করা। আমি প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার পরেও গবেষণার কাজটি কখনও বন্ধ রাখিনি, নিরলসভাবে কাজ করে গেছি। শত ব্যস্ততা ও দাপ্তরিক কাজ শেষ করে আমি প্রতিদিন নিয়ম করে নিজের বিভাগে আসতাম। সেখানে আমার একটা নিজস্ব ল্যাব আছে, সেখানে সময় দিতাম। আমার একটা রিসার্চ গ্রুপ আছে, আমরা সবাই মিলে একসাথে কাজ করতাম। আনন্দের বিষয় হলো, সেই গ্রুপেরই আমার এক ছাত্র এবারসহ টানা দুইবার বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় নাম এনেছে। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, আগামীতে বেরোবি থেকে আমাদের এই সংখ্যাটি আরও অনেক বাড়বে।
কৃতজ্ঞতা ও আগামীর স্বপ্ন এই গৌরবময় বিশ্ব স্বীকৃতিতে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বিশ্বের ‘টপ ২ শতাংশ সায়েন্টিস্ট’ তালিকায় স্থান লাভ করেছি। এই অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের, গর্বের এবং একই সঙ্গে অনেক বড় দায়িত্বের। এই স্বীকৃতি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এর পেছনে রয়েছে আমার পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর আন্তরিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা। তাদের সবার প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি মূলত নবায়নযোগ্য শক্তি এবং উন্নত সৌরশক্তি প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন। বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ের এই সাফল্যকে গবেষণার শেষ নয়, বরং পথচলার নতুন জ্বালানি হিসেবে দেখছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে এই বিজ্ঞানী জানান, কোনো স্বীকৃতিই গবেষণার শেষ নয়; বরং এটি আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। আমি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে চাই। বিশেষ করে তরুণ গবেষকদের সাথে কাজ করে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং দেশের জন্য কার্যকর প্রযুক্তি উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের গবেষণার জন্য আমরা সবাই মিলে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।