খাবার দোকান থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ জবি ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে
- জবি কন্ট্রিবিউটর
- প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৫, ১০:০৩ PM , আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৫, ১২:৫৭ PM

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থীদের দেয়া খাবারের দোকানের জায়গা দখল করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাশেদ বিন হাকিম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থী মিলে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে ‘খাওন দাওন’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করেন। প্রাথমিকভাবে ব্যবসা ভালো চললেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষার কারণে সাময়িকভাবে দোকান বন্ধ রাখা হয়।
এই সুযোগে জবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ বিন হাসিম ও ওমর ফারুক দোকানের জায়গা দখলের চেষ্টা চালান এবং প্রতিদিন ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আজ মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে দোকানের মালামাল সরিয়ে নিয়ে যায় তারা বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
তারা উভয়ের ছাত্রদল নেতা জিয়াউদ্দিন বাসেতের অনুসারী বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নিশু আক্তার বলেন, জুলাইয়ে পরে আমরা কয়েকজন ফ্রেন্ড মিলে ছোটখাটো বিজনেস করার সিদ্ধান্ত নেই। আমরা নিজের জমানো জমানো প্রায় দেড় লাখ টাকা দিয়ে শুরু করি। আমরা নভেম্বর থেকে শুরু করেছি। মাঝখানে আমাদের পরীক্ষা ও ফিল্ডওয়ার্ক ছিল। এরপর আবার রোজা চলে আসে।
তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মাঝখানে কিছুদিন অফ রেখে ঈদের পর থেকে আমরা আমাদের ব্যাবসা পুনরায় শুরু করবোচ। এই সময়ের মধ্যে আমাদের এক পার্টনারকে কল দিয়ে রাশেদ এবং ফারুক বিভিন্ন প্রশ্ন করে, আমরা কবে ব্যাবসা শুরু করেছি, কেন করেছি, ব্যবসা চালাবো কিনা। এক পর্যায়ে তারা আমাদের দোকা দখল করে ও ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাইলে তাদেরকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে বলে জানায়।
আরেক পার্টনার শিহাব প্রান্ত জানান, তিন-চারদিন আগে থেকে রাশেদ এবং ফারুক কয়েকদিন ধরে আমাকে কল করে বিভিন্নভাবে প্রশ্ন করে হেনস্তা করে, আমাকে ছাত্রলীগ বলেও ট্যাগ দেয় এবং আমাকে সরে যেতে বলে। তাদের কথা না মানলে তারা আমার কাছ থেকে নিয়মিত আনুমানিক ৫০০-৬০০ টাকা চাঁদা দাবি করে।
তিনি বলেন, এটা কারো ব্যক্তিগত জায়গা নয়, তাই আমি চাঁদা কেন দিবো। এ নিয়ে তাদের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। আমি চলে যাই। আজকে তারা আমাদের কর্মচারীকে সরায় দিয়ে আমাদের দোকানের মালামাল ফেলে দিয়েছে, আমাদের ফুড কার্ডটাকে ফেলে দিয়েছে, আমাদের দোকানের করা রং মুছে দিয়ে সেখানে কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেয়।
আমাদের দোকান তারা দড়ি দিয়ে চারদিকে আটকে রেখেছে। আমাদের দোকানের অনেক মালামাল খুঁজে পাচ্ছি না। আমাদের লাখ টাকার উপরে মালামাল ছিল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওমর ফারুক বলেন, আমাদের চাঁদা দাবি করার অভিযোগটি সত্য নয় বরং তারা নিজেরা চাঁদা নিয়েছে। বিগত দুই মাস তাদের দোকান বন্ধ ছিল। আমরা সেখানে গিয়ে জানতে পারি রফিক মোল্লা নামে এক দোকানদার সেই দোকান চালাচ্ছে।
রফিক মোল্লাকে জিজ্ঞেস করে আমি জানতে পেরেছে সে দোকানটা চালাচ্ছে এবং বিনিময়ে তাদেরকে (শিহাব, নিশুসহ তাদের পার্টনাররা) দৈনিক ২০০ টাকা করে দিচ্ছে। এই জায়গায় তারা কেন ২০০ টাকা করে চাঁদা নিয়ে মোল্লাকে ভাড়া দেবে। এটা তাদের নিজেদের জায়গা না। আর আমরা তাদের দোকানের মালামাল ফেলে দেইনি, পাশে সরিয়ে রেখেছি।
ফারুক আরও বলেন, আমাদের মনে হয়েছে এখানে দোকান কাউকে চালাতে দিলে একজনকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। কারণ তারা বিগত দুই মাস দোকান চালাচ্ছে না। সেই উদ্দেশ্য আমরা দোকান নতুন করে চালু ইরার উদ্যোগ নিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে আরেক অভিযুক্ত রাশেদকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।
২০০ টাকা দেয়ার বিষয়ে দোকানি রফিক মোল্লা জানান, তারা রমজানের আগে দোকান চালিয়েছে, তাদের নিজেদের লোক দিয়েই চালিয়েছে। কিছুদিন যখন তাদের দোকান বন্ধ ছিল তখন তারা অন্য একজন লোক দিয়ে দই-চিরা বিক্রি করিয়েছে। যেহেতু তারা স্টুডেন্ট মানুষ, তারা ব্যাবসা ভালো বোঝেনা।
তারা আমার কাছে একজন লোক ব্যবস্থা করে দেয়ার অনুরোধ করেছিলো। আমি তাদের সাহায্য করেছি। আর তাদের দোকান বন্ধ থাকার সময় আমার কিছু জিনিসপত্র সেখানে রেখেছিলাম। কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন হয়নি।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত নই। তবে যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যারা আগের দোকানের মালিক ছিলেন, তাদের স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে।
জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোন লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ জমা দিলে আমরা প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেবো।
উল্লেখ্য, অনুসন্ধানে বিগত দুই মাস রফিক মোল্লা দোকানটি শিহাব প্রান্ত ও তার পার্টনারদের থেকে দৈনিক ২০০ টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিয়ে দোকানটি ব্যবহার করেছে, তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বরং একাধিক সূত্রে জানা গেছে ফারুক ও রাশেদ বিভিন্ন সময়ে শিহাব প্রান্তর থেকে আনুমানিক ৫০০-৬০০ টাকা চাঁদা দাবি করেছে।