কেমন সুযোগ-সুবিধা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ছবি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ৩ জানুয়ারি বরিশালের বেল’স পার্কের বিশাল জনসভায় সর্বপ্রথম বরিশালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এর প্রায় ৩৭ বছর পর ২০১০ সালের ১৬ জুন জাতীয় সংসদে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশাল সফরে এসে দেশের ৩৪তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়” এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বর্তমানে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুচ্ছে যে ২২ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে তার মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। আজকের প্রতিবেদনে থাকছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তারিত তথ্য।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: কীর্তনখোলা ও খয়রাবাদ নদীর মোহনায় গড়ে ওঠায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরূপ সৌন্দর্য যে কোন ব্যক্তিকে মুগ্ধ করবে। ঋতুভেদে প্রকৃতি যেমন নব নব রূপে সজ্জিত হয়, তেমনিভাবে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যও নব রূপে ফুটে উঠে। শরতে শুভ্র সাদা কাশফুল ছেয়ে যায় ক্যাম্পাস, বসন্তে পলাশ ফুলে রঙ্গিন হয়ে উঠে মুক্তমঞ্চের আঙ্গিনা আর শীতে কুয়াশায় চাদর মুড়ি দেয় ক্যাম্পাস। 

বিভাগ সংখ্যা: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদের অধীনে মোট ২৫টি বিভাগ রয়েছে। ২৫ টি বিভাগের মধ্যে রয়েছে গণিত, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, কোস্টাল স্টাডিজ এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, সয়েল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স, বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড বায়োটেকনোলজি, বাংলা, ইংরেজি, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, লোকপ্রশাসন, পলিটিকাল সাইন্স, আইন, মার্কেটিং,  ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ইসলামিক স্টাডিজ এবং সমাজকর্ম।

আসন সংখ্যা: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদের অধীনে মোট ২৫টি বিভাগে প্রতিবছর ১ হাজার ৪৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পান। এদের মধ্যে বিজ্ঞানের জন্য ৫৭২ টি আসন এবং বিভাগ পরিবর্তনের জন্য ১৫৪ টি আসন রয়েছে।

শিক্ষক সংখ্যা: দেশে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে দাদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষক শিক্ষার্থীর অনুপাত প্রায় ১:৪০। ২৫ টি বিভাগে মোট শিক্ষক সংখ্যা ১৮৮ জন, যাদের মধ্যে অধ্যাপক মাত্র  একজন। 

একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা: স্থাপত্যশৈলীর কারণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন বেশ সুপরিচিত। তবে ভবনটিতে একইসাথে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চলমান থাকায় বেশ কিছু বিভাগেই ক্লাস সংকট রয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ বিভাগেই সেমিনার কক্ষ, বিভাগীয় লাইব্রেরিসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে।

ল্যাব সুবিধা: বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং জীববিজ্ঞান অনুষদভূক্ত বিভাগসমূহের জন্য ল্যাব সুবিধা অপরিহার্য হলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে। বেশ কিছু বিভাগে এখন পর্যন্ত নূন্যতম ল্যাব সুবিধাও নিশ্চিত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞানসহ অপেক্ষাকৃত পুরাতন বিভাগগুলোও এখনও ল্যাব সুবিধায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি।

আবাসন সুবিধা: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য মোট চারটি আবাসিক হল রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। আবাসিক হলসমূহে আসন সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি সাধারণত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা প্রদান করে না।

শিক্ষার্থীদের সাফল্য: নেতৃত্ব, জ্ঞান বিকাশ, উদ্ভাবন-আবিষ্কার, সৃজনশীলতার মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরবময় স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেছে।  সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত স্পাইক এশিয়া ফেস্টিভ্যাল অব ক্রিয়েটিভিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নিয়মিত সাফল্য বয়ে আনছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীরা কৃষি কাজে ব্যবহার উপযোগী ড্রোন উদ্ভাবন করেছে। অন্ধদের জন্য টকিং গ্লাস আবিষ্কার করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।এ  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের  ব্যবহারের জন্য তৈরি করেছে অ্যাপস, চালু করেছে অনলাইন রেডিও, ওয়েবসাইট বিভিন্ন জিনিস। উচ্চশিক্ষার জন্য চীন, ভারত, তুরস্কসহ ইউরোপের দেশগুলো থেকে সুনামধন্য স্কলারশিপ ছিনিয়ে নিচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পিছিয়ে নেই চাকরির বাজারেও । বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বেড় হওয়া দক্ষ গ্র্যাজুয়েটরা দেশের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সেক্টরে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান ইতিমধ্যে গড়ে তুলেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে  শিক্ষকতা করছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

সামাজিক সংগঠন: বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পুঁথিগত জ্ঞান চর্চার জায়গা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে মানুষ গড়ার কারিগর, জ্ঞান বিকাশের জায়গা। প্রগতি, নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা, মানবিকতা, পরোপকারিতা,যুক্তিতর্কের উৎকৃষ্ট জায়গা। আর এসব নিশ্চিত করতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে  নিরলস কাজ করে যাচ্ছে অনেকগুলো সামাজিক, সাংস্কৃতিক,স্বেচ্ছাসেবী  সংগঠন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংগঠন হচ্ছে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধন,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, ৭১'র চেতনা,প্রথম আলো বন্ধুসভা, সমকাল সুহৃদ,উচ্ছ্বাস,  ইচ্ছেফেরি,  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কুইজ সোসাইটি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান ক্লাব, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যদল, কীর্তনখোলা ফ্লিম সোসাইটি, বাংলাদেশ  তরুণ কলাম লেখক ফোরাম,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিসহ অসংখ্য সংগঠন৷ 


সর্বশেষ সংবাদ