ড. মো. মহিউদ্দিন ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রহমান © সংগৃহীত
হঠাৎ অস্থিরতা সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি)। ইতোমধ্যেই কমিশনের দুই সদস্য পদত্যাগ করেছেন। তালিকায় রয়েছেন আরও কয়েকজন; যারা দ্রুতই পদত্যাগ করতে পারেন। যদিও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন নাকি তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে- তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
সূত্র বলছে, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সদস্য ড. মো. মহিউদ্দিন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে শেষ অফিস করেছেন আরেক সদস্য ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রহমান (এম সোহেল রহমান)। ড. মহিউদ্দিন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব। আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
এর আগে গত আগস্টে পদত্যাগ করেছিলেন সংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম। তার ক্ষেত্রেও জোর আলোচনা উঠেছিল, সরকারের চাওয়াতেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ওই অধ্যাপক।
জানতে চাইলে সদ্য পদত্যাগ করা ড. মো. মহিউদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি এবং ওইদিন আমার শেষ অফিস ছিল। যদিও মন্তব্যকালে রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি। তার বক্তব্য, ‘কোনো চাপ নয়, ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগ করেছি।’ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি তিনি।
পদত্যাগ করা অন্য সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রহমান জানান, গতকাল তথা ১৭ অক্টোবর (শনিবার) পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে আপাতত কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি এ-ও জানান, তার পদত্যাগের বিস্তারিত কারণ রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া চিঠিতে রয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলবেন জানান বুয়েট অধ্যাপক সোহেল।
এদিকে আজ রবিবার এই দুই সদস্যের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি কার্যালয় থেকে এক আদেশে বলা হয়, সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ড. মো. মহিউদ্দিন ১৫ অক্টোবর এবং অধ্যাপক ড. এম সোহেল রহমান ১৭ অক্টোবর সংবিধানের ১৩৯ (৩) অনুচ্ছেদের বিধান উল্লেখপূর্বক রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ১৮ অক্টোবর তারিখে তাদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। এমতাবস্থায়, সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ড. মো: মহিউদ্দিন ও অধ্যাপক ড. এম সোহেল রহমানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত হওয়ায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে এতসঙ্গে প্রেরণ করা হলো।
বর্তমানে চেয়ারম্যান ছাড়া পিএসসির সদস্য মোট ২০ জন। পদত্যাগের পর তালিকা ১৮ জনে নেমে এসেছে। এই দুইজন ছাড়াও পদত্যাগের তালিকায় রয়েছেন আরও কয়েকজন। এমনটিই দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছে পিএসসির একটি সূত্র।
পিএসসি সদস্যদের ডেকে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা জানিয়েছেন সরকারের মন্ত্রী: জামায়াত আমির
এদিকে পিএসসিতে সরকার হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ রবিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, একের পর এক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা হচ্ছে। এবার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ওপরও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি দাবি করেন, একজন মন্ত্রী পিএসসির সদস্যদের ডেকে নিয়ে রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসা নয়। কোনো সদস্যকে এ ধরনের কথা বলার অধিকারও মন্ত্রীর নেই। তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা যে কারণে প্রথমে রাস্তায় নেমেছিল, সেটি ছিল মেধার ভিত্তিতে অধিকার আদায়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মাধ্যমে সেই আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ফেসবুকে লিখেছেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী পিএসসি সংস্কার করতে হবে। সংস্কার ব্যতীত পিএসসিতে কোনো দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হলে এবং আবারও ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠলে, সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। সরকারি চাকরি নিয়ে আর কোনো টালবাহানা চলবে না।