‘হোয়াই হিস্ট্রি ম্যাটার্স: কানেক্টিং কলেজ, এনএসইউ, অ্যান্ড সোসাইটি’ শীর্ষক একাডেমিক আউটরিচ সেমিনার © সৌজন্যে প্রাপ্ত
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) ইতিহাসের গুরুত্ব এবং কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে শিক্ষাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে ০৫ নভেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) এনএসইউ সিন্ডিকেট হলে ‘হোয়াই হিস্ট্রি ম্যাটার্স: কানেক্টিং কলেজ, এনএসইউ, অ্যান্ড সোসাইটি’ শীর্ষক একাডেমিক আউটরিচ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ’র মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক সালিমুল্লাহ খান, এবং এনএসইউ অফিস অব রিসার্চের পরিচালক অধ্যাপক নরম্যান কে. সোয়াজো। অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের চেয়ার অধ্যাপক মো. পারভেজুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন ও অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম।
সেমিনারে ঢাকার বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হলি ক্রস কলেজ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নবাব হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইতিহাস বিষয়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও সচেতন সমাজ গঠনে ঐতিহাসিক জ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ ইতিহাস শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় ও ব্যবহারিক করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “ইতিহাস এমনভাবে পড়াতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, বাস্তব জীবনে ইতিহাসের প্রয়োগ ও উপযোগিতাও তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে।”
অধ্যাপক সালিমুল্লাহ খান বলেন, “ইতিহাস কেবল অতীতকে বোঝার বিষয় নয়; বরং বর্তমানকে অনুধাবন এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনেরও একটি মাধ্যম।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ের জটিলতা অনুধাবন এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হওয়ার জন্য অতীত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অপরিহার্য।
অধ্যাপক নরম্যান কে. সোয়াজো ইতিহাস ও দর্শনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “ইতিহাস যেমন জ্ঞান ছাড়া অসম্ভব, তেমনি ইতিহাসের জ্ঞান ছাড়া দর্শনকেও যথাযথভাবে অনুধাবন করা সম্ভব নয়।”
সেমিনারের সঞ্চালক অধ্যাপক মো. পারভেজুর রহমান ‘কমিউনিটি-এনগেজড হিস্ট্রি’ ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “ইতিহাসের শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমাজের সেই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকেও এর আওতায় আনতে হবে, যাদের দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বহীন বিবেচনা করা হয়েছে এবং ঐতিহাসিক বর্ণনা থেকে ক্রমাগত বাদ দেওয়া হয়েছে।”
আলোচনা পর্বে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বসুন্ধরা শাখার প্রধান শিক্ষিকা ডালিয়া নার্গিস বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “শুধু শিক্ষক নন, বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানবিক বিভাগের বিষয়গুলোতে ভবিষ্যৎ নেই - এমন মানসিকতাই মূল সমস্যার জায়গা। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।”
সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনে অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম আমন্ত্রিত অতিথি, অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গেই ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।
অনুষ্ঠানটি কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ইতিহাস বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি, উচ্চশিক্ষায় ইতিহাস ও গ্লোবাল স্টাডিজের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।