ডিআইইউ ছাত্রশক্তির আসন্ন কমিটিতে আলোচনায় যারা © সংগৃহীত
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা। বিশেষ করে আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও মুখ্য সংগঠক পদে ছয় ছাত্রনেতার নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। তারা প্রত্যেকেই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসন্ন কমিটির আহ্বায়ক পদে আলোচনায় রয়েছেন রফিকুল ইসলাম ও সাজেদুর রহমান। সদস্য সচিব পদে কাজী নাজমুস সাকিব ও মারুফ মন্ডল এবং মুখ্য সংগঠক পদে ওমর ফারুক ও রাকিবুল ইসলাম রাজুর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো পদে কারও নাম চূড়ান্ত করা হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আহ্বায়ক পদে আলোচনায় থাকা রফিকুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ডিআইইউ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আন্দোলন-পরবর্তী সময়েও বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তাকে সরব থাকতে দেখা গেছে। ফলে আসন্ন কমিটিতে তার অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, একই পদে আলোচনায় থাকা সাজেদুর রহমান ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিআইইউ সমন্বয়ক পরিষদের সদস্য ছিলেন। আন্দোলনের সময় সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার কারণে তিনিও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচিতি পান। আসন্ন কমিটির আহ্বায়ক পদে তার নাম উঠে আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, আহ্বায়ক পদে আলোচনায় থাকা এই দুই ছাত্রনেতাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, গ্রুপ ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত আলোচনায় নানা মতামত উঠে আসছে। তাদের অতীত সাংগঠনিক ভূমিকা, আন্দোলনে সম্পৃক্ততা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়েও চলছে আলোচনা।
কমিটির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ সদস্যসচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কাজী নাজমুস সাকিব ও মারুফ মন্ডল। দুজনই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে সক্রিয় ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা যায়, মারুফ মন্ডল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ক্যাম্পাসের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।
অপরদিকে, কাজী নাজমুস সাকিব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও নিজ এলাকার একাধিক সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ করেছেন। স্বেচ্ছাসেবামূলক ও মানবিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া আসন্ন কমিটির মুখ্য সংগঠক পদে আলোচনায় রয়েছেন ওমর ফারুক ও রাকিবুল ইসলাম রাজু। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া এই দুই ছাত্রনেতার নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় উঠে এসেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে শেষ পর্যন্ত কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।
কমিটিতে পদপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় থাকা ছাত্রনেতারা জানান, সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয় কিংবা অন্য কোনো বিবেচনার পরিবর্তে সাংগঠনিক দক্ষতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীলতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।
তাদের ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং একটি ইতিবাচক সাংগঠনিক পরিবেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত নতুন নেতৃত্বের অন্যতম লক্ষ্য। সংগঠন যাদের যোগ্য মনে করবে, তাদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখবেন।
এ বিষয়ে সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশক্তির এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, ‘এখনো কমিটি চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে খুব শিগগিরই কমিটি ঘোষণা করা হবে। আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে যথাযথ ব্যক্তিকে যথাযথ জায়গায় বসানোর চেষ্টা করছি।’
এদিকে, নতুন কমিটিকে ঘিরে আলোচনার মধ্যেই নেতৃত্ব নির্বাচনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা উঠে আসছে।
তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনায় থাকা এই ছয়জনের মধ্য থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে নেতৃত্ব আসবে, নাকি নতুন কোনো নাম যুক্ত হবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।