নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি শিশু আইন, ২০১৩ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ PM , আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ PM
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি শিশু আইন, ২০১৩ বিষয়ক সেমিনার

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি শিশু আইন, ২০১৩ বিষয়ক সেমিনার © সৌজন্যে প্রাপ্ত

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর লিগ্যাল রিসার্চ, ইউনিসেফ এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ‘শিশু আইন, ২০১৩ শীর্ষক সেমিনার’ এর আয়োজন করে। সেমিনারে শিশু অধিকার, আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড এবং বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা-সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে শিক্ষাবিদ, শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ, আইন পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ইশতিয়াক আহমেদ এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম।

অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ বিশ্বব্যাপী শিশুদের অপরাধ ও বিভিন্ন ধরনের অন্যায়ের শিকার হওয়ার ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে আর্থসামাজিক প্রতিকূলতা শিশুদের শোষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর আইনি সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম বাংলাদেশের আইনি কাঠামোয় জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ (UNCRC)-এর নীতিমালা বাস্তবায়নে শিশু আইন, ২০১৩-এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা ও দেশীয় আইনের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের একত্ববাদ  ও দ্বৈতবাদ ধারণা নিয়ে আলোচনা করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৃহীত অঙ্গীকারকে শিশুদের জন্য কার্যকর আইনি সুরক্ষায় রূপ দিতে দেশীয় আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি, ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহেরীন শিশু সুরক্ষা-সংক্রান্ত আইন থাকা এবং বাস্তবে তার কার্যকর প্রয়োগের মধ্যকার ব্যবধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিশু আইন, ২০১৩ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকলেও এর বিধান এবং বাস্তব জীবনে এর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা এখনও সীমিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে আইনি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সমন্বয়ে বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনি সচেতনতা ও ক্ষমতায়নের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমাজে আইনবিষয়ক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিশু অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্ভাব্য অগ্রণী ভূমিকার কথাও বলেন।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য ড. নেছার ইউ. আহমেদ বাংলাদেশে শিশুদের বিকাশের পথে বিদ্যমান বৃহত্তর চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং শিশুদের বহুমাত্রিক বঞ্চনার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, শৈশবকে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে নয়, বরং জীবনের একটি স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। শিশুদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা এবং মানবিক গুণাবলি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ, সুযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে এসএআরসি প্রকল্প, আইন ও বিচার বিভাগের প্রোগ্রাম অফিসার জনাব সাইদুল ইসলাম একটি পরিচিতিমূলক কার্যক্রম ও প্রাক্‌-মূল্যায়ন পর্ব পরিচালনা করেন। এরপর অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম ‘শিশুর অধিকার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড: প্রশ্ন ও পর্যালোচনা’ শীর্ষক পর্ব পরিচালনা করেন, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে শিশু অধিকার পর্যালোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ বিষয়ক একটি অডিওভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাও উপভোগ করেন। পরবর্তী সময়ে জনাব সাইদুল ইসলামের পরিচালনায় ‘শিশু আইন, ২০১৩-এর প্রয়োগ’ শীর্ষক দলীয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা আইনটির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং এসএআরসি প্রকল্পের পরিচালক জনাব এস. এম. আরশাদুল আলম ‘শিশু আইন, ২০১৩: বিধান ও বাস্তবায়ন—প্রশ্ন ও পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেশন পরিচালনা করেন। এ পর্বে আইনটির বিভিন্ন বিধান ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয় এবং আইনগত অঙ্গীকারকে কার্যকর শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

সেমিনারের সমাপনী পর্বে অতিথিদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সনদপত্র প্রদান করা হয়।

এই সেমিনারের মাধ্যমে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শিশু সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার বিষয়ে গঠনমূলক সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। শিশু আইন, ২০১৩-এর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশে শিশুদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইন পেশাজীবী ও শিশু সুরক্ষা-সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বও অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।

‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন রাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক না…
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে প্রধান শিক্ষকের …
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
১ জানুয়ারির মধ্যে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন চান প্রাথমিকের সহকারী…
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশে প্রস্তুত মাউশি
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
অনুমতি দিল না প্রশাসন, আমির হামজার মাহফিল স্থগিত
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য হালনাগাদে ১৫ দিনের সম…
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬