সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন সহকারী শিক্ষক © সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এবার লটারি পদ্ধতি চালুর বিষয়ে চিন্তা করছে সরকার। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কোনো বিদ্যালয়ের একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক যোগ্য আবেদনকারী থাকলে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবেন।
তবে বর্তমান বদলি নীতিমালায় লটারির মাধ্যমে শিক্ষক নির্বাচনের কোনো আইনগত সুযোগ নেই। ফলে সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ দিতে হলে বদলি নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে হবে। তাই মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বদলি নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এই নিয়ম যুক্ত হলে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষক বদলির উদ্যোগের কথা নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন। গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) দেয়া হয়েছে। এক আসনে যদি দুইজন প্রার্থী থাকেন সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হবে কিন্তু শিক্ষক বদলির বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আমরা প্রভাবিত করিনি।
শিক্ষক সংকট নিয়ে তিনি বলেন, প্রাইমারি স্কুলে ৫০ হাজার সহকারী শিক্ষক দরকার। তারপর আমাদের হেড মাস্টার ৩৮ হাজার। পিএসসি বলছে এতো শিক্ষক একসঙ্গে দেয়া সম্ভব না। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বললাম। তিনি বললেন লেটস ট্রাই টু ফাইন্ড আউট আদার ওয়ে। কারণ বিগত সরকার এমন ব্যবস্থা করছে- এখন পিএসসির মাধ্যমে নিতে হবে।
বদলি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, একজন বললেন পাঁচজন শিক্ষক থাকলে ট্রান্সফার হবে না, আমাদের শিক্ষক থাকলে না আমরা আইন করতাম এক স্কুলে ছয়জন শিক্ষক দেয়া যেতে পারে। ইউ সি নাউ। তাহলে এরমধ্যে যদি ট্রান্সফার দিয়ে দিই, এমনিতেই নেই শিক্ষক- তাহলে কি স্কুল চলবে? তদবির সিস্টেম তো সব সময় রয়েছে। মিলনের কথা শোনার দরকার নেই। সবাই এসে বলে আমার মামাতো ভাই, আমার খালাতো ভাই- চলছেই তো। আপনারা বললেন ট্রান্সফার নেই। আমরা তো ট্রান্সফারের দায়িত্ব ডিসি সাহেবদের দিয়ে দিয়েছি। এক আসনে যদি দুইজন প্রার্থী থাকেন সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে লটারি করবেন তারা। আমরা তো এটা পলিটিকালাইজ করিনি।
তিনি বলেন, বদলিতে আমরা তো বলিনি যে পলিটিশিয়ান হতে হবে। আমরা তো সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেন। এই ডিসিশন তো ডিসি, ইউএনওদের দেয়া হয়েছে। ঢাকায় বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্পেশাল কেইস ঢাকায় যেতে পারে। তবে নিয়মেই বাইরে নয়।
জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমে চলতি বছরই পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই এবং নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে বদলির আবেদন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান রয়েছে।
সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো সহকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকার চাকরির মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ না হলে সাধারণভাবে বদলির জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নেই। একবার বদলি হওয়ার পর পরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ফের বদলির আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক আছেন ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯৭০ জন। এরমধ্যে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৫ জন নারী শিক্ষকতা করছেন। পুরুষ শিক্ষক ১ লাখ ২৩ হাজার ১৩৪ জন। শতকরা হিসাবে নারী শিক্ষক ৬৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ আর পুরুষ ৩৩ দশমিক শূন্য ৯৮ শতাংশ।